কোনো ষড়যন্ত্রই বাংলাদেশের অগ্রগতি ঠেকাতে পারবে না

অ্যাড. নূরজাহান বেগম মুক্তা: বাংলাদেশকে ঘিরে ষড়যন্ত্র সব সময়ই চলে আসছে। এটা আমাদের জাতির জন্য নতুন কিছু নয়। মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে নানাবিধ আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই আমাদের সোনার বাংলা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ এখন পৃথিবীর উদীয়মান শক্তি। যে গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ, আগামী ১০ বছর পর নতুন বাংলাদেশকে দেখবে বিশ্ববাসী- এটা আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বগুণে আমরা পাব বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা। জাতির পিতার স্বপ্নগুলো তার হাত ধরেই বাস্তবে রূপ নিয়েছে এবং নিচ্ছে।

সেনাছাউনিতে জন্ম নেওয়া রাজনৈতিক দল বিএনপি, যারা শুরু থেকেই এ দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল তাদের কাছ থেকে জাতি তেমন কিছু আশা করতে পারে না। আমাদের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যথার্থই বলেছেন, বিএনপির নাম এখন বাংলাদেশ নালিশ পার্টি। দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বর্তমান সরকারকে চাপে রাখতে নতুন করে তাদের বন্ধুপ্রতিম ৮ দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে নালিশ জানাতে বৈঠক ঠিক করেছে। গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আমরা জানতে পেরেছি, ইতোমধ্যে ২টি দেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকও সেরেছেন খালেদা জিয়া। রাতের আঁধারে বৈঠকগুলোতে কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়, সেসব আলোচনার বাইরেও দেশের বাইরে তারা কী কী ষড়যন্ত্র করেন তা দেশবাসীর কাছে অজানা নয়। দলটির এমন হীন কাজ কখনই এ দেশের জনগণ মানবে না বলে বিশ্বাস করি।

এবার আসল কথায় আসা যাক, পদ্মা সেতুর দৃশ্যমান অগ্রগতি এখন জাতির সামনে। ৪০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়ে গেছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেখানো পথেই হেঁটে নিজস্ব অর্থায়নে হচ্ছে আমাদের অর্থনীতির নতুন মাইলফলক পদ্মা সেতু। পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন নিয়ে দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক যে দুর্নীতির অভিযোগ এনেছিল সেসব কানাডার আলাদত খারিজ করে দিয়ে বলেছেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে কোনো ধরনের দুর্নীতি হয়নি। এটা জাতি হিসেবে আমাদের আশ্বান্বিত করে।

বুধবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত বক্তব্যে বলেছিলাম, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন দেশবিরোধীরা মেগা প্রকল্পগুলোর বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। এটা কখনই দেশের জনগণ মেনে নেবে না। কানাডার আদালতে প্রমাণ হয়েছে পদ্মা সেতু প্রকল্পে কোনো দুর্নীতি হয়নি। কিন্তু খালেদা জিয়া ও মুহাম্মদ ইউনূস গং মিলে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে নানা ইন্ধন জুগিয়েছিল সে সময়। তাদের বিচার হওয়া উচিত। সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে সামাজিকভাবে যে পরিমাণ হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছিল, তার জন্য যারা ইন্ধনদাতা হিসেবে কাজ করেছেন তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত। তা না হলে জাতি তাদের কখনো ক্ষমা করবে না।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক পর্যালোচনা বৈঠকে প্রভাবশালী গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডি জানিয়েছে, ৭ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জনের যে দাবি সরকার করছে তাসহ সামষ্টিক অর্থনীতিতে কিছু ইতিবাচক অর্জন রয়েছে। মূল্যস্ফীতি সহনীয় অবস্থায় রয়েছে, সুদের হার কমছে, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য ইতিবাচক অবস্থায় বিদ্যমান রয়েছে। ডলারের বিপরীতে টাকার মান বেড়েছে। দেশের অর্থনীতির সবগুলো সূচকই যখন ইতিবাচক ধারায় উন্নীত হচ্ছে তথন বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা এদেশীয় এজেন্টদের নিয়ে তৎপর হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের মদদপুষ্ট শ্রমিক নেতারা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়তই। সেসব মোকাবিলা করেই সরকারের সহায়তা নিয়ে দেশের পোশাক খাত নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ২০২১ সালের মধ্যে রপ্তানি আয় ৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

প্রবাসী ভাই-বোনদের কষ্টার্জিত রেমিট্যান্সের টাকায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে অনেকদূর। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশকে চেনাতে এবং খুব ইতিবাচক ইমেজ তৈরিতে তারাই অ্যাম্বাসেডরের ভূমিকায় রয়েছেন। তাদের নিয়েও ষড়যন্ত্র করেছিল বিএনপি-জামায়াত জোট। সৌদি আরব ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে চুক্তি বাতিলে তাদের ষড়যন্ত্র কাজে আসেনি। প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় নেতৃত্বে সেসব বাধা দূর হয়েছে। এখন নামমাত্র সরকারি খরচে অনেকেই বিদেশে গিয়ে নিজের ভাগ্য বদলের সুযোগ পাচ্ছেন।

রামপাল প্রকল্প নিয়ে অতি উৎসাহী পরিবেশবাদীদের নিয়ে আমার সংশয় রয়েছে। তারা কোনো অশুভ এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্যই রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরোধিতায় নেমেছেন। আমি মনে করি, দেশ যখন উন্নয়নের মহাসড়কে উঠেছে তখন সুবিধাবাদী সুশীল সমাজ এবং তথাকথিত পরিবেশবাদীরা নিজেদের অবৈধ ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে বলে রামপাল প্রকল্পের বিরোধিতা করছেন। কিন্তু রাজধানী ঢাকার প্রাণ বুড়িগঙ্গা যখন মরে যাচ্ছে তখন তারা কোনো কথা বলছেন না। এমনকি বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ নিয়েও তাদের নেই কোনো আন্দোলন। সরকারের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করা এবং দেশকে পিছিয়ে রাখতেই তারা রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে কথা বলছেন।

পরিবেশবাদীদের মধ্যে অনেকেই জীবনে একটি গাছও রোপণ করেননি। এমনকি সুন্দরবনেও কখনো যাননি। আগে সুন্দরবনে গিয়ে তাদের থাকতে হবে। তার পর বুঝতে হবে রামপাল সুন্দরবন থেকে কত দূরে। সুন্দরবনে ১০ বছর আগে যেখানে বাঘের সংখ্যা ৬ শতাধিক ছিল, সেখানে তা কমে দেড়শতে নেমে এসেছে। তখন তো রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র হয়ে ওঠেনি। এসব প্রশ্ন জাতি পরিবেশবাদীদের সামনে ছুড়ে দিয়েছে। আরও কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করতেই হয়, বড় বড় কথা বলার আগে পরিবেশবাদীরা যে এসি রুমে বসে থাকেন সেখানেও এসি থেকে বিষাক্ত গ্যাস বের হয়, সেটি নিয়ে তারা কথা বলেন না। নিমতলীতে কেমিক্যাল বিস্ফোরণে নিহত শত শত লোকের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়নি তাদের। সরকারের উদ্যোগেই পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল কোম্পানি সরানোর কাজ চলছে। রাজধানীর বুকে ট্যানারি থাকলেও সেগুলো সরানোর জন্য পরিবেশবাদীরা হরতাল ডাকেননি। সাভারের অদূরে সরকারিভাবে ট্যানারি পল্লী গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে কোম্পানিগুলো স্থানান্তরের কাজও শুরু হয়ে গেছে। পরিবেশবাদীদের আন্দোলন শুধু রামপালের বিরুদ্ধে।

রামপালসহ আরও মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ আর গরিব থাকবে না। দেশের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের পরিবারের সবাইকে হারিয়ে দেশপ্রেম থেকেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তার চেয়ে বড় দেশপ্রেমিক আর কে হতে পারেন। তিনিই ভালো বোঝেন দেশের জন্য কোনটা ভালো, কোনটা খারাপ। বাংলাদেশকে ডিজিটাল করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। তার এসব মহান কাজকে নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করবে তাদের বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

পরিশেষে একটা কথাই বলতে চাই, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্বের সামনে বিএনপি-জামায়াত জোটের কোনো ষড়যন্ত্রই কাজে আসবে না। এসব মোকাবিলা করে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেই।

[লেখক: সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য।]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *