দায়েশ বিরোধী অভিযানের নামে সিরিয়ার অবকাঠামো ধ্বংস করছে আমেরিকা

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটকম, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সিরিয়া সরকার ফোরাত ও তেশরিন বাধ এবং এর আশেপাশের এলাকায় হামলা বন্ধে মার্কিন নেতৃত্বে দায়েশ বিরোধী কথিত জোটের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।সিরিয়ায় আসন্ন বিপর্যয় ঠেকানোই এ আহ্বান জানানোর উদ্দেশ্য বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। দামেস্ক আরো বলেছে, এসব গুরুত্বপূর্ণ বাধ ধ্বংস করাই মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের প্রধান উদ্দেশ্য। এগুলো ধ্বংস করা হলে সিরিয়ার ছোট বড় বিভিন্ন শহর বন্যায় তলিয়ে যাবে এবং শত শত মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়বে।

অনেক গণমাধ্যম সিরিয়ায় মার্কিন সেনাদের বিমান হামলায় বহু বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টিফেন গত বৃহস্পতিবার সিরিয়ার আদলিব প্রদেশে ব্যাপক বিমান হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছেন। আমেরিকা দায়েশ বিরোধী কথিত জোট গঠনের মাধ্যমে ২০১৪ সাল থেকে সিরিয়া ও ইরাকে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ জাতিসংঘ ওই হামলার অনুমতি দেয়নি এমনকি সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদও মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের এ ধরণের হামলার অনুমতি দেয়নি।

গত কয়েক দশকে মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাবলী লক্ষ্য করলে দেখা যাবে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের কারণে এ অঞ্চলের সব কিছু কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে এবং মার্কিন নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সন্ত্রাসীরা অবাধে বিচরণ করছে। আমেরিকা সন্ত্রাসীদের ওপর হামলার কথা বললেও বাস্তবে তারা ইরাক ও সিরিয়ার অবকাঠামোগুলোকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। আর এ মিশন বাস্তবায়নে তারা দায়েশকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে।

দায়েশ সন্ত্রাসীরা এবং তাদের সমর্থক অর্থাৎ আমেরিকা, ইসরাইল, সৌদিআরব ও অন্য আরো কয়েকটি আরব দেশ এখন ইরাক ও সিরিয়ার জনগণের প্রতিরোধ ক্ষমতার বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরেছে। ওই দুই দেশে মার্কিন হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে বিশ্বজনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়েছে। আমেরিকার ধ্বংসলীলা ও অপরাধযজ্ঞের মাত্রা এতটাই বেশি যে, মার্কিন কর্মকর্তারাও তারা স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু তারপরও তারা বিশ্বকে ধোঁকা দেয়ার জন্য ‘ভুল করে বেসামরিক মানুষের ওপর বোমা বর্ষণ করা হয়েছে’ বলে দাবি করে থাকেন। যাইহোক, মার্কিন কর্মকর্তারা ইরাক ও সিরিয়ার ব্যাপারে তাদের সহিংসকামী চেহারার প্রকাশ ঘটিয়েছেন এবং হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ ছাড়া তারা আর কিছুই দিতে পারেননি।

সূত্র: পার্সটুডে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *