স্পর্শে অনুভবে স্পর্শিয়া

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটকম, ঢাকা: সরলতাকে দুর্বলতা নয়, ভালোবাসতে শিখেছেন ছোটবেলা থেকেই। সরাসরি কথা বলার জন্য অনেকে স্পর্শিয়ার দিকে আড় চোখে তাকান। ভাবেন, মেয়েটি বজ্জাতের হাড্ডি! কিন্তু তাতে কী আসে যায়! নিজেকে নিজের মতো করেই গড়ে তুলেছেন। নিন্দুকের কথা কানে না নিয়ে নিজের গন্তব্যের দিকে ছুটছেন টিভি পর্দা থেকে সম্প্রতি চলচ্চিত্রে অভিনয়ে নাম লিখানো এ আবেদনময়ী অভিনেত্রী।

মডেলিং দিয়ে শোবিজ অঙ্গনে যাত্রা শুরু স্পর্শিয়ার। প্রতিষ্ঠিত এক কোম্পানির একটি প্রসাধনী বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মডেলিং দুনিয়ায় আবির্ভাব। তবে এর পেছনে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে তাকে।

ছোটবেলা থেকেই মানুষের কাছ থেকে নিগ্রহের শিকার হওয়ায় সমাজের প্রতি প্রচণ্ড ক্ষোভ এ তারকার। তাই প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর কোনো কাজেই সমাজের ধার ধারেন না। এখনও সমাজের এক শ্রেণীর মানুষ তার পেছনে লেগে আছেন বলেই জানালেন। তারা যে আমৃত্যু লেগে থাকবে এমনটিই বিশ্বাস তার। তবে এতে মনে হয় না স্পর্শিয়ার কোনো ক্ষতি হবে।

তার ভাষায়, ‘এখনও কিছু মানুষ আমার পেছনে লেগে থাকেন। মাঝে মাঝে স্পর্শিয়ার ইমেজ খারাপ এমন ডাক তোলেন। ব্যাস এ পর্যন্তই শেষ। মুখোশধারী ওই মানুষগুলোর চিৎকারে আমার কিছুই যায় আসে না।’ সমাজের ওইসব মানুষের দিকে তাকিয়ে তথাকথিত সামাজিক হওয়ারও কোনো ইচ্ছে নেই তার। ঘৃণা করেন ঘুণেধরা এই সমাজকে।

এ প্রসঙ্গে স্পর্শিয়া বলেন, ‘সেই ছোট বেলা থেকেই সমাজ আমাকে অবহেলা করেছে। আমার বাবা আমার মাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছিল সেই অবহেলা। এজন্য সমাজ সারা জীবন আমার মায়ের দোষ দিয়েছে। যখন আমার বয়স দশ বছর, তখন একটি প্যারেন্টস মিটিংয়ে বলা হয়েছে, এই মেয়ের বাবা নেই, তাই এই মেয়ে খারাপ, মাও খারাপ। ভাবুন এ সমাজকে কীভাবে সম্মান দেখাব আমি! বাবা না থাকায় আমি আর মা একটি বাসায় সাবলেট ভাড়া থাকতাম। তখন বাড়িওয়ালা এসে আমাদের দরজায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নক করত। বিভিন্ন আজেবাজে কথা বলত। অথচ তিনি সমাজের একজন ভদ্র মানুষ ছিলেন।’

নিউটনের গাণিতিক সূত্র প্রতিটি ক্রিয়ারই সমান প্রতিক্রিয়া আছে- এর ওপর প্রবল বিশ্বাস স্পর্শিয়ার। তাই সমাজ এবং সমাজের মানুষ তাকে যেভাবে দেখবেন তিনিও সমাজ এবং সমাজের মানুষকে সেভাবেই দেখবেন বলে জানালেন। দার্শনিক বিশ্লেষণের বাইরেও দারুণ বিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে চলেছেন এ নায়িকা। খবর এবং কিছুটা প্রচারণার আড়ালে থাকতে পছন্দ করেন তিনি। তাই সবার কাছে দেয়া ফোন নাম্বারটি প্রায়ই বন্ধ রাখেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও খুব একটা যাতায়াত নেই তার। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘টিভি পর্দায় নিজেকে দেখালেও আসলে আমি ডুবে থাকতে পছন্দ করি। তাই অনেকেই আমার নামে অভিযোগ তোলেন আমাকে নাকি খুঁজে পাওয়া যায় না।’

ডুবে থাকুক আর ভেসে থাকুক ব্যক্তিজীবনে সুখে থাকতে চান এ তারকা। সেই সুখের আশাতেই রাফসানের সঙ্গে ঘর বেঁধেছেন তিনি। তাদের ঘর বাঁধার এক বছরেরও বেশি হয়ে গেছে। সংসার জীবনে বেশ সুখেই আছেন তারা। দিন দিন তাদের একে অপরের প্রতি ভালোবাসা বাড়ছে বৈ কমছে না।

সংসার জীবন কেমন চলছে প্রশ্ন করলেই এ নায়িকা কিছু দার্শনিক উত্তর দিলেন। জানালেন, ‘সেই ছোট বেলা থেকেই তো সংসার করে আসছি। আমার কাছে, সংসার মানে বিয়ে করার পর স্বামীকে নিয়ে বসবাস করা, বিষয়টা ঠিক সেরকম নয়। জীবন তো জীবনই। আর সংসার জীবন বলতে আসলে কিছু নেই। আমি আসলে বলতে পারছি না, কবে সংসার করি নাই। আগে আমাদের সংসারটা ছোট ছিল। এখন একটু বড় হয়েছে। এখন স্বামী, মা আর আমাকে ঘিরেই পুরো সংসার। আমার স্বামীর পরিবারের বাবা, মা, ভাই-বোন তারাও আমার সংসারের অংশ।’

টিভি পর্দায় ২০১১ সালে অরুণোদয়ের তরুণ দল’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয় শুরু করেন তিনি। এরপর ২০১৩ সালে ‘ইম্পসিবল-৫’ নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের হৃদয়ে স্থান পাওয়া এ তারকা বিটিভিতে প্রচারিত নাটক ‘উজান গাঙ্গের নাইয়া’র মাধ্যমে তুমুল জনপ্রিয়তা পান। তারপর একের পর এক নাটক ও স্বল্পদৈর্ঘ্যে অভিনয় করে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন তিনি।

আর এখন তো স্পর্শিয়ার নতুন অধ্যায়ের শুরু হয়েছে। অনন্য মামুনের ‘বন্ধন’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রের নায়িকা হিসেবে যাত্রা শুরু করেছেন। পাশাপাশি ‘কাঠবিড়ালি’ নামের আরও একটি অফট্র্যাকের ছবিতেও অভিনয় করতে যাচ্ছেন এ তারকা।

চলচ্চিত্রে অভিনয়ে নামছেন, প্রস্তুতি কেমন? জানতে চাইলেন স্পর্শিয়া বলেন, ‘চলচ্চিত্রের জন্য যা যা দরকার তার সবকিছুই করছি। নাচের প্রশিক্ষণ নিয়েছি। নিজের লুকেরও পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে নাটক, টেলিফিল্ম কিংবা মিউজিক ভিডিওতে মডেল হিসেবে অভিনয় করলেও মনোপুত কাজ খুব কমই করেছি। চরিত্রের মধ্যে ডুব দেব এমন কাজের খোঁজে আছি। আশা করছি শিগগিরই এমন কাজ হাতে আসবে।’

আশা বড়। কিন্তু খুব বেশ কঠিন নয়। সময়ের পরিক্রমায় ধরাও দিচ্ছে স্বপ্ন। আসছে কাজের তালিকা তারই ইঙ্গিত দেয়। বরাবরের মতো সেগুলো থাকছে আড়ালে। সময়ের অপেক্ষা মাত্র। স্পর্শিয়ার স্পর্শে কতটা মুগ্ধ হন দর্শক- সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *