ন্যাটোর কাছে জার্মানির কোনো ঋণ নেই: জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটকম, ঢাকা: ম্যার্কেল-ট্রাম্প বৈঠকের পরই কড়া ভাষায় ট্রাম্পের একটি মন্তব্যের প্রতিবাদ করলেন জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী উরসুলা ফন ডেয়ার লায়েন৷ তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ন্যাটোর কাছে জার্মানির কোনো ঋণ নেই৷ তিনি বলেন, ‘‘এমন কোনো হিসাব নেই যেখানে ন্যাটোর কাছে কোনো ঋণের উল্লেখ আছে৷” আগের দিন ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা একটি মন্তব্যের জবাবে এ কথা বলেন উরসুলা ফন ডেয়ার লায়েন৷ শনিবার টুইটারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন, ন্যাটোর কাছে জার্মানির ‘‘বড় অঙ্কের ঋণ রয়েছে৷”
অথচ টুইটারে এমন মন্তব্য করার কয়েক ঘণ্টা আগেই শেষ হয় জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের সঙ্গে তাঁর প্রথম বৈঠক৷ সেখানে কিন্তু এ সম্পর্কে কিছুই বলেননি ট্রাম্প৷
তবে সেখানে তিনি উত্তর অ্যাটলান্টিক নিরাপত্তা জোট ন্যাটোর প্রশংসা করেছেন৷ বলেছেন, ন্যাটোর প্রতি তাঁর সমর্থন রয়েছে৷ এ সময় আফগানিস্তান এবং ইউক্রেন সংকটে জার্মনির ভূমিকার প্রশংসাও করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট৷ বৈঠকে ম্যার্কেল গ্রীষ্মে জার্মানিতে অনুষ্ঠেয় জি-টোয়েন্টি সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্য ট্রাম্পকে আমন্ত্রণ জানান৷ মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাতেও সম্মতি জানিয়েছেন৷ নির্বাচনি প্রচারের সময় থেকেই ট্রাম্প ম্যার্কেলের সমালোচনা করে আসছিলেন বলে বৈঠকে দু’জনের সম্পর্কের দূরত্বটা দৃষ্টিকটুভাবে প্রকাশিত হতে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছিলেন৷ কিন্তু কয়েক মুহূর্তে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা ছাড়া সেরকম কিছু লক্ষ্য করা যায়নি৷ একটা বিষয়ই দৃষ্টিকটু ঠেকেছে আর তা হলো, ওভাল অফিসে ফটোসেশনের সময় ম্যার্কেলের সঙ্গে ট্রাম্পের হ্যান্ডশেক না করা৷ ট্রাম্পের পক্ষ থেকে অবশ্য পরে জানানো হয়েছে, ম্যার্কেলের হ্যান্ডশেক করার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট শুনতে পাননি৷
প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প বলে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্র রাষ্ট্রগুলির উচিত নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে সামরিক ব্যয় বাড়ানো৷ বৈঠকে ম্যার্কেল আশ্বাস দিয়েছেন, ভবিষ্যতে জার্মানিও ন্যাটোর প্রত্যাশা অনুযায়ী সামরিক ব্যয় বাড়াবে৷ ২০১৪ সালে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো সর্বসম্মতিক্রমে জিডিপির ২ শতাংশ সামরিক খাতে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল৷ জার্মানি জিডিপির ১ দশমিক ২ শতাংশ সামরিক খাতে ব্যয় করছে৷
সূত্র: এএফপি/ডিপিএ/ডয়চে ভেলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *