হুজি নেতা মুফতি হান্নানের ফাঁসি কার্যকর যে কোনো দিন

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটকম, ঢাকা: নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) প্রধান মুফতি হান্নানের ফাঁসি কার্যকর এখন সময়ের ব্যাপারমাত্র৷ সর্বোচ্চ আদালতে তার রিভিউ আবেদন খারিজ হয়ে গেছে৷ তবে চাইলে, এখনও তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারেন৷ প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকোচ হলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে মুক্তি হান্নানের৷ ২০০৪ সালের ২১শে মে বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর সিলেট হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজরে হামলা হয়৷ সেদিন তিনি মাজারের মসজিদ থেকে জুমার নামাজ শেষে বের হলে তাঁর ওপর ঐ হামলা চালানো হয়৷ এতে তিনজন নিহত হন আর গুরুতর আহত হন আনোয়ার চৌধুরীসহ ৭০ জন৷ এই মামলায় ২০০৮ সালের ২৩শে ডিসেম্বর সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল হুজি নেতা মুফতি আবদুল হান্নান, হুজির সদস্য শরীফ শাহেদুল আলম (বিপুল) ও দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়৷ অন্য দুই আসামি মুফতি হান্নানের ভাই মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে অভি ও মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দালের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেয় আদালত৷ এরপর হাইকোর্ট এবং আপিল বিভাগেও মুফতি হান্নানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল থাকে৷ আপিল বিভাগের রায়ের পর রিভিউ আবেদনও করা হলেও, সোমবার রিভিউ আদেশেও মুফতি হান্নানসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়৷
অ্যাটর্নি জেনালের মাহবুবে আলম বলেন, ‘‘মুফতি হান্নানের ফাঁসি কার্যকরের দিন গণনা শুরু হয়ে গেছে৷ এরমধ্যে সে চাইলে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারে৷ রাষ্ট্রপতি তাকে ক্ষমা করবেন কি করবেন না, সেটা অবশ্য তাঁর এক্তিয়ার৷”
তিনি জানান, ‘‘কারাবিধি অনুসারে এখন তার রিভিউ বাতিলের আদেশ পড়ে শুনানোর পর, সাতদিনের আগে দণ্ড কার্যকর হবে না৷ আবার ২১ দিন পরও নয়৷ অর্থাৎ সাত ও একুশ দিনের মধ্যেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে৷ তবে দণ্ড কার্যকর করার বিষয়টি এখন সরকারের এক্তিয়ারে৷”
মুফতি হান্নান এখন কাশিমপুর কারাগারে আছেন৷ নিয়ম অনুয়ায়ী তার মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত আদেশ সিলেটের বিচারকি আদালতে যাবে৷ এরপর সেখান থেকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হবে৷ শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত আদেশটি কাশিমপুর কারাগারে যায়নি৷”
মুফতি হান্নানের বিরুদ্ধে আরো কয়েকটি মামলা বিচারাধীন আছে৷ এগুলো হলো – ২০০০ সালে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাস্থলের কাছে বোমা রেখে তাঁকে হত্যার চেষ্টা, ২০০১ সালে রমনা বটমূলে বোমা হামলা, ২০০৪ সালে ২১শে আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে শেখ হাসিনার সমাবেশস্থলে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে তাঁকে হত্যার চেষ্টা৷ এছাড়া ২০০৫ সালে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন এই মুফতি হান্নান৷ এ প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘‘মুফতি হান্নানের বিরুদ্ধে আরো মামলা আছে৷ কিন্তু সেকারণে তার ফাঁসি কার্যকরে কোনো বাধা নেই৷ কারণ এই মামলায় তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, যা কিনা সর্বোচ্চ দণ্ড৷ সর্বোচ্চ দণ্ড কার্যকর করাই নিয়ম৷”
মুফতি হান্নান নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল-ইসলামী বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় নেতা৷ তার বাড়ি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার হিরণ গ্রামে৷ তিনি একজন আফগান ফেরত ‘মুজাহিদ’৷ শোনা যায়, আফগানিস্তানে বসেই মুফতি হান্নান এবং তার অনুসারীরা হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশ গঠন করে৷ নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশে তৎপরতা শুরু করে তারা৷ পরে ২০০০ সালে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাস্থলের কাছে বোমা রেখে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনার ঘটনায় মুফতি হান্নানের নাম প্রথম আলোচনায় উঠে আসে৷ ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ১৭টি হামলার মূল হোতা ছিলেন মুফতি হান্নান৷ এ সব হামলায় নিহত হন ১০১ জন, আহত আরো ৬০৯৷ ২০০৫ সালের ১লা অক্টোবর ঢাকার বাড্ডা থেকে মুফতি হান্নানকে গ্রেপ্তার করা হয়৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *