কর্নেল আজাদের চোখ ভেদ করে মস্তিষ্কে ঢুকেছে স্প্লিন্টার

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটকম, ঢাকা: র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) গোয়েন্দা শাখার প্রধান লে কর্নেল আবুল কালাম আজাদের শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হয়েছে। সোমবার রাতে আবুল কালাম আজাদের পারিবারিক সূত্র জানিয়েছ, এই সাহসী র‌্যাব কর্মকর্তাকে জীবনমৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনতে চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।
আজাদের স্ত্র্রীর বড় ভাই ডা. শিমুল আহমদ জানান, আজাদের সারা শরীর অসংখ্য স্প্লিন্টারে ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। এতে তার মাত্রাতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। স্প্লিন্টার আজাদের চোখের মণি ভেদ করে মস্তিষ্কে ঢুকে গেছে। আর একাধিক স্প্লিন্টার তার কপাল ও মাথায় ঢুকে গেছে। ডা. শিমুল আরো জানান, সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই আজাদের কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। তখুনি তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। এরপর দ্রুত ঢাকায় আনা হয়। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের চিকিৎসকরা আজাদের মস্তিষ্কে অপারেশনের চেষ্টা করেন। ডা. শিমুল বলেন, সিএমএইচ এর চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। তারপরও সিঙ্গাপুরে নিউরো সার্জারির সুবিধা বেশি বলেই সেখানে আজাদকে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরো জানান, তার ছোট ভাই সিঙ্গাপুর থেকে ফোনে জানিয়েছেন, সোমবার রাত ১টায় আজাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে ডাক্তারের ব্রিফ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন এ সিদ্ধান্ত বদল করে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের চিকিৎকরা লে. কর্নেল আজাদের সর্বশেষ অবস্থা জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে আতিয়া মহলে প্যারা কমান্ডোর জঙ্গিবিরোধী অভিযানের সময় দক্ষিণ সুরমার গোটাটিকর মাদ্রাসার সামনে পুলিশ চেকপোস্টের কাছে প্রথম বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর এক ঘণ্টার মাথায় রাত ৮টার দিকে আগের ঘটনাস্থলের কাছে পূর্ব পাঠানতলা মসজিদ এলাকায় আরেকটি বিস্ফোরণ হয়। এতে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৬ জন নিহত হন। আহত হন অন্তত ৪৫ জন। ওই বোমা বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন লে. কর্নেল আজাদ।
বিস্ফোরণে আহত র‌্যাবের অপর গোয়েন্দা কর্মকর্তা হলন মেজর আজাদ। তিনিও ঢাকা সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন।
এর আগে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন র‌্যাবের ওই দুই কর্মকর্তা। শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় রাতে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে তাদের ঢাকায় আনা হয়। রোববার রাত ৮টা ৫ মিনিটে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে আজাদ সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *