মারা গেলেন অভিনেতা মিজু আহমেদ

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটকম, ঢাকা : চলচ্চিত্রের বর্ষীয়ান অভিনেতা মিজু আহমেদ আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। দ্রুতযান ট্রেনে দিনাজপুর যাওয়ার পথে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম এ খল অভিনেতা। সোমবার রাত পৌনে ৮টার দিকে ট্রেনের ভেতরেই হার্ট অ্যাটাক হয় তার।
পরে বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে তাকে নামানো হলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। সেখান থেকে মরদেহ কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেয়া হয় বলে জানা গেছে। লাশবাহী গাড়িতে মিজু আহমেদের পরিবারের সদস্য ও চলচ্চিত্রের অনেকেই ছিলেন।
জানা গেছে, হাসপাতালের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে রাতেই মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে মিজু আহমেদের নিজ বাসায়। এই অভিনেতা দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর পান্থপথে স্কয়ার হাসপাতালের বিপরীতে কনকর্ড টাওয়ারে বসবাস করতেন।
চিত্রনির্মাতা শাহীন সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাত ৯টার দিকে দ্রুতযান ট্রেনে ওঠার কিছুক্ষণ পরই মিজু আহমেদ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে সেখান থেকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। লাশ বর্তমানে কুর্মিটোলা হাসপাতালে রয়েছে। অভিনেতা মিশা সওদাগর এই মুহূর্তে মিজু আহমেদের মরদেহের পাশে রয়েছেন।
মিজু আহমেদ ১৯৫৩ সালের ১৭ নভেম্বর কুষ্টিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্ম নাম হচ্ছে মিজানুর রহমান। শৈশবকাল থেকে তিনি থিয়েটারের প্রতি খুবই আগ্রহী ছিলেন। পরবর্তী কুষ্টিয়ার স্থানীয় একটি নাট্যদলের সাথে অন্তর্ভুক্ত হন। ১৯৭৮ সালে ‘তৃষ্ণা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে অভিনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন মিজু আহমেদ। পরবর্তী কয়েক বছরে ঢালিউডে অন্যতম সেরা একজন খলনায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। এছাড়াও নিজের চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা ফ্রেন্ডস মুভিজের ব্যানারে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছেন। তার অভিনীত ছবিগুলো মধ্যে হচ্ছে মহানগর (১৯৮১), স্যারেন্ডার (১৯৮৭), চাকর (১৯৯২), সোলেমান ডাঙ্গা (১৯৯২), ত্যাগ (১৯৯৩), বশিরা (১৯৯৬), আজকের সন্ত্রাসী (১৯৯৬), হাঙর নদী গ্রেনেড (১৯৯৭), কুলি (১৯৯৭), লাঠি (১৯৯৯), লাল বাদশা (১৯৯৯), গুন্ডা নাম্বার ওয়ান (২০০০), ঝড় (২০০০), কষ্ট (২০০০), ওদের ধর (২০০২), ইতিহাস (২০০২), ভাইয়া (২০০২), হিংসা প্রতিহিংসা (২০০৩), বিগ বস (২০০৩), আজকের সমাজ (২০০৪), মহিলা হোস্টেল (২০০৪), ভন্ড ওঝা (২০০৬) ইত্যাদি। ‘ত্রাস’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ১৯৯২ সালে সেরা খল অভিনেতার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন মিজু আহমেদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *