প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠেছে জঙ্গিরা!

টাইমস আই বেঙ্গলী ডকটম, ঢাকা: আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অব্যহত অভিযানের মুখে জঙ্গিরা কি পিছু হঠছে? তারা কি দুর্বল হয়ে পড়ছে? নাকি আরো বেশি প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠছে? সারাদেশে জঙ্গিদের তৎপরতা নিয়ে এমন বহু আলোচনা হচ্ছে৷ নিরাপত্তা বিশ্লেষকরাও বলছেন নানা কথা৷ নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন বললেন, ‘‘আমাদের গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে হবে৷ বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জঙ্গিদের প্রতিরোধের মধ্যে পড়ছে৷ ফলে তারা আগের চেয়েও বেপরোয়া৷” জঙ্গিদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে–এ কথা মানতে রাজি নন এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক৷ তিনি জানান, ‘‘শিক্ষিত ছেলেদের মধ্যে যারা হারিয়ে গেছে তারা তো এই পথেই আছে৷ নতুন নতুন কৌশল নিচ্ছে না৷ আসলে আমাদের খুঁজে বের করতে হবে জঙ্গিদের ‘রিক্রুটমেন্টটা’ হচ্ছে কোথা থেকে৷ তাহলে আমরা মূল জায়গায় পৌঁছাতে পারব৷”
আরেকজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশীদ বললেন, ‘‘জঙ্গিরা আস্তে আস্তে দুর্বল হয়ে পড়ছে৷ সাম্প্রতিকালের তাদের তৎপরতা দেখে এমনটাই মনে হচ্ছে৷” তাঁর কথায়, ‘‘সর্বশেষ যে দু’টি অপারেশন হলো, মূলত সিলেটে ও চট্টগ্রামে, সেখানে আমরা দেখেছি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জঙ্গিরা অবস্থান করছে৷ ফলে বোঝা যাচ্ছে যে, তারা নতুন নতুন সদস্য আনতে না পেরে বিবাহের মাধ্যমে নতুন করে এগোনোর চেষ্টা করছে৷ নতুন সদস্য আসা অনেক কমে গেছে৷ ফলে দিন দিন তারা দুর্বল হচ্ছে৷ এখন আর তারা কোথাও দাঁড়াতে পারছে না৷ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যহত থাকলে তারা আরো দুর্বল হয়ে পড়বে বলে আমার মত৷”
এদিকে সিলেটের জঙ্গিবাড়ি আতিয়া মহলে সব ধরনের অভিযান শেষ করেছে সেনাবাহিনী৷ মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর পুরো এলাকা পুলিশের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ নিহত চারজন জঙ্গির মধ্যে একজন পুরুষের মৃত্যু হয়েছে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে৷ একজন নারী নিজের গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছে৷ সেনাবাহিনী সোমবার ঐ দু’জনের লাশ পুলিশের কাছে হস্তান্তরের পর মঙ্গলবার ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে৷ বাকি দু’টি লাশ এখনও ঐ জঙ্গি আস্তানার ভেতরে রয়েছে৷ তবে দু’টি লাশের ময়নাতদন্তের পর কোতোয়ালি থানার ওসি সোহেল আহমদ জানান, ‘‘লাশ দু’টি চেনার উপায় নাই৷ অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবেই তাদের ময়নাতদন্ত হয়েছে৷ এখন লাশ দু’টি রাখা হবে হিমাগারে৷ এছাড়া পরিচয় নিশ্চিতের জন্য ডিএনএ নমুনা ও আঙুলের ছাপ রাখা হয়েছে৷”
আতিয়া মহলে বিস্ফোরক শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করতে মঙ্গলবার ড্রোনের ব্যবহার করছে সেনাবাহিনী৷ ড্রোনের সাহায্যে মঙ্গলবার আতিয়া মহলের ভেতরের ছবি তোলা হয়েছে৷ সেগুলো দেখে বিস্ফোরক শনাক্ত এবং নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে৷ সেনাবাহিনীর নিজস্ব ড্রোন থাকলেও, তারা সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বানানো ড্রোন এ কাজে ব্যবহার করেছে৷ ড্রোন ছাড়াও বিস্ফোরক শনাক্ত করতে অন্য প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে৷ সেনাবাহিনী আগেই জানায়, বাড়িতে প্রচুর পরিমাণে বিস্ফোরক রয়েছে৷ তাই তাদের সাবধানে অভিযান চালাতে গিয়ে সময় বেশি লাগছে৷ মঙ্গলবারও সেখান থেকে চারটি বিস্ফোরকের শব্দ শোনা গেছে৷
মোগলাবাজার থানার ওসি খায়রুল ফজল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানান, ‘‘সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কাগজে-কলমে আতিয়া মহলটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে৷ আমরা এখন বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সুইপিংয়ের অপেক্ষায় আছি৷ এরপরই পুলিশ ভেতরে যাবে৷”
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার পঞ্চমদিনের মতো আতিয়া মহলে অভিযান অব্যাহত রাখে সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডোর টিমের সদস্যরা৷ এ দিন সেখানে কোনো গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যায়নি৷ আতিয়া মহল এলাকায় এখনও সবার প্রবেশ নিষিদ্ধ রয়েছে৷ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে আতিয়া মহলের নীচতলায় জঙ্গিরা অবস্থান করছে বলে জানতে পারে ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট৷ শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে ঐ বাড়ির ভেতর থেকে গ্রেনেড ছোড়া হয়৷ পরে ঢাকা থেকে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াতকে পাঠানো হয় ঘটনাস্থলে৷ তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সন্ধ্যা থেকে পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণে নেয় সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডো দল৷ সব মিলিয়ে জঙ্গি বিরোধী এই কমান্ডো অপারেশনে মারা গেছেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা, চার জঙ্গিসহ ১০ জন৷
সূত্র: ডয়চে ভেলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *