পিলখানা হত্যা: ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি আজ

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটকম, ঢাকা: বহুল আলোচিত পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহে সেনা কর্মকর্তা হত্যা মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও কারাবন্দি আসামিদের করা সব ফৌজদারি আপিলের ওপর রবিবার হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চে আইনি যুক্তি উপস্থাপন করবেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানির এদিন ধার্য করা হয়।এ মামলায় ১৫২ জন আসামির ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আসামিদের আপিলের ওপর শুনানি ২ এপ্রিল পর্যন্ত মূলতবি করেন হাইকোর্টের বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চ।বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার।বাংলাদেশের ইতিহাসে আসামির সংখ্যার দিক দিয়ে সবচেয়ে বড় এই মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর বিশেষ বেঞ্চে ২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি শুনানি শুরু হয়।এ মামলায় গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ৩৫৯ কার্যদিবসের আপিল শুনানি শেষে আজ ৩৬০ দিনের মতো শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম বলেন, আসামিপক্ষের মৌলিক বিষয়ে যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়েছে। এখন রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তি উপস্থাপন শেষ হলে তা খণ্ডন করে আসামিপক্ষ যুক্তি উপস্থাপনের সুযোগ পাবে।
২০১৫ সালের ৪ জানুয়ারি এ মামলা শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। এ বেঞ্চের বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে শুনানি গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করায় তার পরিবর্তে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারকে দায়িত্ব দিয়ে বেঞ্চ পুনর্গঠন করা হয়।২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দফতরে (পিলখানা) সংঘটিত ট্র্যাজেডিতে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন।
ওই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে মামলা দুটি নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তর হয়। এর মধ্যে হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিলের পর লালবাগের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে বিচার কাজ শেষে গত বছরের ৫ নভেম্বর হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ড. মো. আখতারুজ্জামান।
এ মামলায় ৮৪৬ জন আসামীর মধ্যে বিডিআরের উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) তৌহিদুল আলমসহ ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নাসির উদ্দীন আহম্মেদ পিন্টু (কারাগারে মৃত্যু) ও স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা তোরাব আলীসহ ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয় আরো ২৫৬ জনকে। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পান ২৭৭ জন।
পরে নিম্ন আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে কারাবন্দি ১৩৮ জন ফাঁসির আসামিসহ অন্যান্য আসামি হাইকোর্টে আপিল করেন। একইসঙ্গে নিম্ন আদালত থেকে ফাঁসির দণ্ড অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয় ডেথ রেফারেন্স। এছাড়া খালাসপ্রাপ্তদের মধ্যে ৬৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। এখন এসব আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি চলছে।
এই মামলার শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্ট বিশেষ উদ্যোগ নেন। বিশেষ ব্যবস্থায় এ মামলার ৩৭টি পেপারবুক তৈরি করা হয়। প্রতিটি পেপারবুকে পৃষ্ঠা সংখ্যা ৩৭ হাজারেরও বেশি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *