সমুদ্রসীমায় যুদ্ধজাহাজ: জিব্রালটার নিয়ে বৃটেন-স্পেন উত্তেজনা তুঙ্গে

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটকম, ঢাকা: জিব্রালটার নিয়ে বৃটেন ও স্পেনের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে বৃটেনের সমুদ্রসীমায় অনুপ্রবেশ করেছে স্পেনের নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ এনফ্যান্টা ক্রিস্টিনা। এ নিয়ে সেই উত্তেজনা আরেক দফা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ঘটনায় স্পেনের কাছে প্রতিবাদ পাঠাবে বৃটেন। বৃটিশ ওভারসিজ টেরিটোরি বা দেশের বাইরে তাদের কলোনি হিসেবে জিব্রালটারের সার্বভৌমত্ব নিয়ে দেশ দুটোর মধ্যে এ বিরোধ। এরই মধ্যে গত সপ্তাহে সেই উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় সাবেক মন্ত্রী মাইকেল হাওয়ার্ডের একটি বক্তব্যে। তিনি মন্তব্য করেছিলেন কৌশলগত ওই ভূখণ্ড (এনক্লেভ) রক্ষা করতে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে যুদ্ধ শুরু করতে পারেন। তার এ বক্তব্য প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেন নি। তারপর থেকে এ নিয়ে তার মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করছেন না। এমনই পরিস্থিতির মধ্যে জিব্রালটারে বৃটেন দাবি করছে তাদের সমুদ্রসীমায় অনুপ্রবেশ করেছে স্পেনের যুদ্ধজাহাজ। স্পেন সরকারও বিষয়টি স্বীকার করেছে। ফলে নতুন করে সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব পড়েছে। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট ও জিব্রালটার ক্রনিকলস। এতে বলা হয়, জিব্রালটার সরকারের এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এপিকে বলেছেন, ওই যুদ্ধজাহাজটি বৃটিশ/জিব্রালটার সমুদ্রসীমায় প্রবেশ করেছিল। এতে বাধা দেয় জিব্রালটার স্কোয়াড্রন এবং তাদেরকে ফিরে যেতে বলা হয়। তবে এ ঘটনায় জিব্রালটার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ পাঠাবে কিনা সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেন নি ওই মুখপাত্র। ওদিকে বৃটেন ঠিকই এর প্রতিবাদ পাঠাবে। বৃটিশ সরকারের মুখপাত্র বলেছেন, বৃটিশ জিব্রালটার টেরিটোরিয়াল সমুদ্রসীমায় অবৈধ সব রকম অনুপ্রবেশকে চ্যালেঞ্জ জানাবে রয়েল নেভি। এ বিষয়ে আমরা কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্পেন সরকারের কাছে প্রতিবাদ জানাবো। বৃটিশ জিব্রালটার সমুদ্রসীমায় আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য কার্যকর এ পদক্ষেপ নেয়া হবে। ওদিকে জিব্রালটারের চারপাশে যে জলসীমা রয়েছে তা নিয়ে দীর্ঘদিন বিতর্ক চলছে। আগেও স্পেন ঘোষণা দিয়েছে যে, জিব্রালটারের শুধু পাথরগুলো (রক) দাবি করতে পারে বৃটেন। কিন্তু চারপাশে যে পানি জিব্রালটারকে বেষ্টন করে আছে তা তারা দাবি করতে পারে না। অন্যদিকে জিব্রালটার নিজে বিশ্বাস করে তার চারপাশে যে জলসীমা আছে তার মালিক তারা। এই জিব্রালটারের ভবিষ্যত কি হবে সেটাই এখন ব্রেক্সিট প্রক্রিয়ায় সমঝোতায় বড় বিতর্কিত বিষয় হয়ে উঠবে।
সূত্র: মানবজমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *