আফগান আইএস মোকাবিলায় পাকিস্তান, চীন ও রাশিয়ার জোট

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটকম: দীর্ঘদিনের তিক্ততা, ভুল বুঝাবুঝি দূর করে পাকিস্তান, চীন ও রাশিয়া একটি জোটে আসতে সম্মত হয়েছে। কয়েক দশক ধরেই ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ দেশগুলোর মধ্যে খানিকটা উত্তেজনা ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সরাসরি সম্পর্ক এশিয় মোড়ল চীন ও বিশ্বের অপর পরাশক্তি রাশিয়াকে খানিকটা দূরে ঠেলে দিয়েছিল।

পররাষ্ট্রনীতিতে চিরন্তন শত্রু-মিত্র বলতে যে কিছু থাকেনা বা থাকতে নেই তার প্রমাণ হচ্ছে তাদের সাম্প্রতিক এই জোটবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা। ওদিকে পাকিস্তানের কড়া শত্রু বলে পরিচিত ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক রাখার চেষ্টা করছে। সে কারণেই কিনা বা কৌশলগত কারণে পাকিস্তান রাশিয়া ও চীনের দিকে হেলে পড়ছে।
সামরিক বাহিনী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিদের বরাতে জানা যায় পাকিস্তান শিগগিরই একটি আনুষ্ঠানিক সম্পর্কের দিকে আগাচ্ছে। তাদের মধ্যে সম্পর্কটা হবে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আফগান যুদ্ধের রাজনৈতিক সমাধান নিয়ে আসা।
সেসব কর্মকর্তারা নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান পাকিস্তান, চীন ও রাশিয়া এই উপসংহারে এসে পৌঁছেছে যে আফগানিস্তানে যুদ্ধটা প্রলম্বিত রাখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এটা পাকিস্তানের সামনে আর কোন দরজা খোলা রাখেনি। তাই আঞ্চলিকভাবে সমাধান করার জন্য চীন ও রাশিয়ার সাথে জোটবদ্ধ হতে হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে ইরান ও যোগ দিচ্ছে এই তালিকায়। ব্যাপারটা দেখাচ্ছে পাকিস্তান স্পষ্টতই মার্কিন বলয় থেকে একটু সরে এসে রুশ বলয়ের দিকে যাচ্ছে।
আফগান সমস্যা সমাধানের জন্য মস্কো এরই মধ্যে দুবার বসেছে পাকিস্তানি ও চীনা কর্তাব্যক্তিদের সাথে। এ মাসের শেষের দিকে তাদের মধ্যে একটি বড় আকারের মিটিং হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। প্রলম্বিত আফগান সমস্যা সমাধানে আঞ্চলিক কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় সে ব্যাপারে ঐকমত্যে আসার চেষ্টা করা হতে পারে। রাশিয়া ও চীনের একটি বড় ভয় হচ্ছে আফগানিস্তানে আইএস এর আবির্ভাব।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যাচ্ছে সিরিয়া থেকে কয়েক হাজার আইএস যোদ্ধাকে আফগানিস্তানে পাঠানো হয়েছে। পাকিস্তান, চীন ও রাশিয়া মনে করে যুদ্ধ বিধ্বস্ত আফগানিস্তানকে আরো অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে এটা করা হতে পারে বলে ভাবা হচ্ছে। এ দেশগুলো সন্দেহ করছে এর পেছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাত আছে। চীন ও রাশিয়াকে কাউন্টার দেওয়ার জন্য আইএসকে প্রক্সি হিসেবে কাজে লাগানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে মনে করছে সেসব দেশগুলো।
দীর্ঘদিন আফগানিস্তানে যুদ্ধ চলা পাকিস্তানের উন্নতি ও স্থিতিশীলতার জন্য বিপজ্জনক। পাকিস্তানের এক নিরাপত্তা বিশ্লেষক লে. জেনারেল (অবঃ) আমজাদ শোয়াইব মনে করেন ‘অনেকটা বাধ্য হয়েই পাকিস্তানকে যেতে হচ্ছে রাশিয়া ও এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোর কাছে।’ পাকিস্তান আর্মির এই সাবেক কর্মকর্তা ও মনে করেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা নিয়ে আসার পক্ষপাতি নয়। পাকিস্তান তাই ট্রাম্প প্রশাসনকে আগে থেকেই জানিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র যদি এগিয়ে না আসে চীন ও রাশিয়া এগিয়ে আসবে আফগান সমস্যা সমাধানে।
আফগানিস্তানের সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি আপোষরফা নিয়ে আসার ব্যাপারে পাকিস্তানের আগ্রহকে সমর্থন করে চীন ও রাশিয়া।
সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *