বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটকম, চট্টগ্রাম থেকে: চট্টগ্রামে ৬ ঘন্টার বৃষ্টিতে ডুবে গেছে নিম্নাঞ্চল। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন নগরীর কয়েক লাখ মানুষ। ডুবে গেছে কয়েক হাজার ঘর-বাড়ি, দোকানপাট। এ কারণে শুক্রবার সকাল থেকে পথচারীরা চরম দুর্ভোগ পোহাতে পড়েন।
বৃষ্টির সঙ্গে যোগ হয়েছে কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের পানি। নগরীর কোথাও কোথাও হাঁটুপানি থেকে কোমর সমান পানি দেখা গেছে।
এদিকে জলাবদ্ধতায় নগরবাসীর অসুবিধা হওয়ায় আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। শুক্রবার ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৬৮ দশমিক ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস। এভাবে আরও দুই থেকে তিনদিন ভাড়ি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারি আবহাওয়াবিদ আবদুল হান্নান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষার আগে সিটি করপোরেশন খালগুলো খনন না করায় এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। রেজা নামে এক পথচারী বলেন, সকাল ১০টায় বহদ্দারহাট যাওয়ার জন্য আগ্রাবাদের বাসা থেকে বের হয়েছেন তিনি। কিন্তু জিইসি পর্যন্ত এসে আটকে গেছেন। পানির জন্য গাড়ি চলছে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর মুরাদপুর, ষোলশহর, হালিশহর, আগ্রাবাদ, ছোটপুল, বড়পুল, বহদ্দারহাট, বাদুরতলা, চকবাজার, বাকলিয়া, এক কিলোমিটার, কাতালগঞ্জ, প্রবর্তক মোড়, চাকতাই-খাতুনগঞ্জসহ নগরীর বেশিরভাগ এলাকার মানুষ হাঁটু থেকে কোমর পানিতে বন্দি হয়ে পড়েছে। ভোর থেকে ভাড়ি বৃষ্টির কারণে নগরীর কয়েক হাজার বাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। এ কারণে দোকানের মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ শেখ ফরিদ আহম্মদ বলেন, কালবৈশাখীর সঙ্গে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে সমুদ্রবন্দরের জন্য কোনো সংকেত নেই। মূলত ভোর ৬টা থেকে এই বজ্রসহ বৃষ্টিপাত শুরু হয়। কালবৈশাখীর বৃষ্টিতে নগরের মুরাদপুর, ষোলশহর, প্রবর্তক মোড়, জিইসি, বহদ্দারহাট, চান্দগাঁও, হেমসেন লেন, হালিশহর, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, শুলকবহর, কাপাসগোলা, সিডিএ আবাসিক এলাকা পতেঙ্গাসহ বিভিন্নস্থান হাঁটু থেকে কোমরপানিতে তলিয়ে যায়। প্রবর্তক মোড়, জিইসি মোড়, মুরাদপুর ও ষোলশহর এলাকায় রাস্তায় পানি ওঠার কারণে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। নগরের হেমসেন লেন, চকবাজার, বাকলিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *