পুষ্টিগুনে ভরপুর কাঁঠালের চকলেট!

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটকম, ঢাকা: গ্রীষ্মকালীন ফলের মধ্যে কাঁঠাল অতিপরিচিত একটি ফল। এই ফলটি বাংলাদেশের জাতীয় ফল হিসেবেও খ্যাত। এর ইংরেজী নাম (Jackfruit) আর বৈজ্ঞানিক নাম Artocarpus heterophyllus. কাঁঠাল এক প্রকারের হলদে রঙের সুমিষ্ট ফল। বাংলাদেশের সর্বত্র কাঁঠাল গাছ কম-বেশি পাওয়া যায়। পাকা কাঁঠালে যেমন উপকার রয়েছে, তেমনি কাঁচা কাঁঠালও কম উপকারী নয়। কাঁচা কাঁঠাল আমিষ ও ভিটামিন সমৃদ্ধ তরকরি। এ ফলটি আকারে বেশ বড় হয়ে থাকে। এর পুষ্টিগুণ রয়েছে অনেক। কাঁঠালের ৪-৫ কোয়া থেকে ১০০ কিলো ক্যালরি খাদ্য শক্তি পাওয়া যায়। কাঁঠাল অপুষ্টিজনিত সমস্যা এবং রাতকানা থেকে অন্ধত্ব প্রতিরোধ করার জন্য খুবই উপকারি ফল।

খাওয়ার শেষে কাঁঠালের বীজগুলো ফেলে দেবেন না। যত্ন করে শুকিয়ে রেখে দিন। না, তরকারি রান্নার জন্য বলছি না। এই কাঁঠাল বীজ থেকেই তৈরি করতে পারেন সুস্বাদু সব চকোলেট।

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, চকোলেটের মতোই সুগন্ধ রয়েছে কাঁঠাল বীজে। কোকো বিনসের তুলনায় সস্তা ও সহজলভ্য হওয়ার কারণে চকোলেটের উপকরণ হিসেবে ক্রমশই বাড়ছে কাঁঠাল বীজের চাহিদা।

ব্রাজিলের সাও পাওলো ইউনিভার্সিটির গবেষকরা জানাচ্ছেন, সারা বিশ্বে প্রতি বছর ৩৭ লাখ টন চকোলেট উৎপন্ন হয়। যেই উৎপাদন আগামী এক দশকের মধ্যে বাড়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। কিন্তু, ২০২০ সালের মধ্যে কোকো বিনসের বার্ষিক চাহিদা পৌঁছে যাবে ৪৫ লাখ টনে। ফলে বেশ কিছু দিন ধরেই কোকো বিনসের বিকল্প খুঁজছিলেন গবেষকরা।

গবেষণার জন্য তাঁরা ২৭টি বিভিন্ন প্রজাতির কাঁঠাল বীজের গুঁড়ো রোস্ট করেন। বিভিন্ন তাপমাত্রায় কাঁঠাল বীজের ফ্লেভার পরীক্ষা করা দেখা হয়। ক্রোমাটোগ্রাফি-মাস স্পেকট্রোমেট্রি পদ্ধতির সাহায্যে বিজ্ঞানীরা দেখেন, কাঁঠালের মধ্যে থাকা বেশ কিছু যৌগের কারণে এর থেকে চকোলেটের মতো সুগন্ধ বেরোয়।

এর পর গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের কয়েক জনকে কাঁঠাল বীজ গুঁড়োর গন্ধ বর্ণনা করতে বলা হয়। কোনও প্রকার গুঁড়োর মধ্যে ক্যারামেল, কোনওটায় হেজেলনাট বা ফলের সুগন্ধ পেয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা। ফলে চকোলেট প্রস্তুত করার কাজে কাঁঠাল বীজকে বিকল্প হিসেবে ভাবতে শুরু করেছেন গবেষকরা। এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড ফুড কেমিস্ট্রি জার্নালে এই গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *