‘ভিশন ২০৩০’ ঘিরে দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে বিএনপির রাজনীতি, সপ্তাহ না পেরুতেই মাঠে খালেদা

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটকম, ঢাকা: ‘ভিশন ২০৩০’ ঘিরে দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে বিএনপির রাজনীতি। উপস্থাপনের পর সপ্তাহ না পেরুতেই ভিশন বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। জানা যাচ্ছে, ‘ভিশন ২০৩০’ এর আলোকে বর্তমানে শিক্ষাব্যবস্থায় সঙ্কট ও সমাধানে বিএনপির ভাবনা নিয়ে শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক চিত্র তুলে ধরে আজ শনিবার ‘বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও আমাদের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেনিমার আয়োজন করেছে দলটি। শনিবার রাজধানীর লেডিস ক্লাবে দিনব্যাপী ওই সেমিনারের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকছেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব সাবেক রাষ্ট্রপতি বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. একিউ এম বদরুদ্দোজ চৌধুরী (বি. চৌধুরী)।সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকছেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।গত বুধবার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত দেশের জন্য যে ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন, তাতে সবাইকে নিয়ে এক ‘রেইনবো নেশন’ বা রঙধনু জাতি গড়ার কথা বলেছেন।
ভবিষ্যতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতামূলক নতুন ধারার রাজনীতি, সুনীতি, সুশাসন ও সু সরকারের প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকার করা হয়েছে।
‘ভিশন-২০৩০’ নামের এ রূপকল্পে ২০৩০ সালের মধ্যে উচ্চমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা, মাথাপিছু আয় পাঁচ হাজার মার্কিন ডলারে উন্নীত করা, প্রবৃদ্ধি দুই অংকে নেয়া, দেশীয় বিনিয়োগে নানা সুযোগ-সুবিধাসহ আড়াই শতাধিক দফা তুলে ধরছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন।
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও বন্দি অবস্থায় অমানবিক নির্যাতনের অবসান ঘটানো, আটক অবস্থায় মৃত্যুর তদন্ত, উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে আইন, ন্যায়পাল গঠন, ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্ষমতা ও তদারকি বাড়ানো, বিদেশে অর্থ পাচার বন্ধ, পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা, প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফেরানো, পুলিশের এএসআই ও কনস্টেবলদের ওভারটাইম ও রেশনের মাধ্যমে খাদ্যপণ্য দেয়ার পাশাপাশি সমমূল্যের অর্থ দেয়াসহ সার্বিক সুবিধা দেয়ার বিষয়গুলো ভিশন ২০৩০ এ ঘোষণা করা হয়েছে।বিএনপির নেতারা বলছেন, এখন থেকে বিএনপির রাজনীতি চলবে ভিশনের আলোকেই। আজকের সেমিনার ভিশনেরই অংশ।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, শিক্ষাখাতের ন্যায় অন্যান্য বিষয়েও ভিশনের আলোকে বিএনপি কর্মসূচি দিবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে ভিশনের প্রতিটি দিক নিয়ে দলের ভাবনা জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০ ঘোষণার পর ক্ষমতাসীন মহলে এনিয়ে সমালোচনা ঝড় বয়ে গেলেও প্রশংসা কুঁড়িয়েছে বুদ্ধিজীবী ও বিভিন্ন পেশাজীবী মহল থেকে। এদিকে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরাও মহাখুশি, তারা আরো চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন।

মাঠ পর্যায়ের নেতারা বলছেন, চেয়ারপারসনের ভিশন ঘোষণা তাদের নতুন করে উজ্জীবিত করেছে। তারা বলছেন, এখন কেন্দ্র থেকে যেকোনো কর্মসূচি দেয়া হলে বাস্তবায়ন করা জটিল হবে না। নেতাকর্মীরা এতটাই চাঙ্গা হয়েছে যে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করার মতোও মনোবল তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলছেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের ঘোষিত ভিশন-২০৩০ দলটির ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত করবে। দলটি নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পাবে। ইতিমধ্যে নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নতুন ধারার রাজনীতি এবং অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের যে স্বপ্ন ভিশনে দেখানো হয়েছে তা এখন জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়াই মূল লক্ষ্য হবে। এটা তারা যতটা সক্রিয়ভাবে করতে পারবে ততই তাদের জন্য মঙ্গল হবে।

বিএনপি ঘরনার অপর রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘোষিত ভিশন-২০৩০ দলটির জন্য খুবই ইতিবাচক ফল বয়ে আসবে বলে আমার ধারণা। তবে ঘোষণা করেই বসে থাকলে চলবে না। এটা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে জনমত গঠনে কাজ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *