‘স্কুলে পড়ার সময় থেকে সাফাত পার্টিতে-বাসায় মেয়ে নিতো’

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটকম, ঢাকা : ছেলে শাফাতের এমন কর্মকাণ্ডে বাবা দিলদার আহমেদ সেলিম মোটেও অনুতপ্ত নন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জোয়ান ছেলেরা একটু-আধটু এমন কাজ করবেই। এদিকে এই বিষয় নিয়ে এতো চুপ থাকলেও অবশেষে মুখ খুললেন ধর্ষনের অভিযোগে অভিযুক্ত শাফাত আহমেদের মা নিলুফার জেসমিন। ‘এত টাকা আর প্রাচুর্য চারিদিকে। কিন্তু তার মনে কোনো শান্তি নেই। রাস্তার কুকুর থেকে শুরু করে সমাজের সকলেই এখন তাদের ঘৃণা করে। সারাদেশে তাদের বিরুদ্ধে এত প্রতিবাদে তিনি অত্যন্ত বিব্রত ও ভীত বোধ করছেন। গত কয়েক দিন ধরে তিনি তার নিজের বাড়িতেও থাকতে পারছেন না।’
এভাবেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে শনিবার সাংবাদিকদের কাছে ছেলের অপকর্মের এসব বিষয় বলেন নিলুফার জেসমিন। তিনি দাবি করেন, সাফাতের বাবাই ছেলেকে অনেক অসৎ কাজ করতে উৎসাহ দিয়েছেন এবং তার লাই পেয়েই ছেলের আজকে এই দশা হয়েছে। নির্যাতিত দুই মেয়ের সঙ্গে যা হয়েছে তা সত্য হলে এটি অন্যায় বলেও অভিমত দেন তিনি। তিনি বলেন, মনে করছেন, তার ছেলে আর কোনোদিন ঘরে ফিরতে পারবে না।
ছেলের অপকর্মের ব্যাপারে তিনি আরো বলেন, সাফাত তার স্কুলে পড়ার সময় থেকেই মেয়েদের নিয়ে পার্টিতে যেতো ও বাসায় নিয়ে আসতো। আমি অনেকবার মানা করলেও তার বাবা সবসময় আমাকে বলতো, এই বয়সে এমন করবেই। সাফাত যখন আমার বৌমা পিয়াসাকে বিয়ে করে ঘরে এনেছিল তখন সেটি ভাঙার জন্য সাফাতের বাবাই সব রকমের চেষ্টা করেছিল। পিয়াসা থাকার সময় আমার ছেলেটা অনেক ভালো ছিল। পিয়াসাকে ডিভোর্স দেওয়ার পেছনে সব কলকাঠি নেড়েছে তার বাবা। তিনি বলেন, এই ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত তার ছিল না ও এটা তিনি পছন্দ করেননি।
নাঈম আশরাফ সম্পর্কে তিনি বলেন, নাঈম সারাক্ষণ আমার বাসায় পড়ে থাকতো। সাফাতের কাছ থেকে টাকা নিয়ে চলতো। এই ছেলেটাকে সাফাতের বাবাই ঘরে নিয়ে আসে ছেলের সঙ্গে থাকার জন্য। আমি কতবার বলেছি একে বাসায় না রাখার জন্য। কিন্তু আমাকে ধমকে চুপ করিয়ে দেয়া হতো। তিনি বলেন, তার ছোট ছেলে ইফাতের জন্যও তার ভয় হয়। বড়টার মতো নষ্ট হয়ে যায় কি না। অন্যায় করে থাকলে সাফাতের শাস্তি হোক, এটাই আমি চাই। কিছুদিন জেলে থাকলে টাকার গরম কিছুটা কমবে বলেও জানান সাফাতের মা নিলুফার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *