ব্রিস্টলের সেই স্মৃতি ফিরে আসবে ওভালে?

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটকম, ঢাকা: সময়ের চাকা ঘুরে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অষ্টম আসরের দামামাটা বেজে উঠার সময়টা এসেই গেল। আজ বাদে কাল বৃহস্পতিবারই শুরু হতে যাচ্ছে ওয়ানডে ক্রিকেটের দ্বিতীয় সেরা এই টুর্নামেন্টের। আর কেনিংটন ওভালে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী সেই থাকছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ইংল্যান্ড। ম্যাচটা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৩ টায়। তার আগে মনের কোণে প্রত্যাশার বেলুন ফুলিয়ে অনবরত বেজে চেলেছে একটা প্রশ্ন, ব্রিস্টলের সেই সুখস্মৃতিটা কী ফিরে আসবে ওভালে? ইংল্রান্ডের সঙ্গে এ পর্যন্ত ১৯টিতে ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে জয় মাত্র ৪টিতে। সেই ৪টি জয়ের দুটি নিজেদের ঘরের মাটিতে। একটি ২০১৫ বিশ্বকাপে, অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে। বাকি একটি জয় ইংল্যান্ডের ঘরের মাঠে। কাল যখন ইংলিশ অধিনায়ক এউইন মরগানের সঙ্গে টস করতে নামবেন, মাশরাফি বিন মুর্তজার মনেও ভেসে উঠতে পারে ব্রিস্টলের সেই স্মৃতি। না হলে মাশরাফি ইচ্ছে করেই মনে করতে পারেন সেই ম্যাচের কথা। ৭ বছর আগে ৫ রানের সেই নাটকীয় জয়ের ম্যাচেও যে অধিনায়ক ছিলেন তিনিই। শুধু অধিনায়ক ছিলেন বলেই নয়, ২০১০ সালের ১০ জুলাই, ন্যাটওয়েস্ট সিরিজের দ্বিতীয় সেই ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের সবচেয়ে বড় নায়ক ছিলেন তিনিই। ব্যাট-বলের অল রাউন্ড নৈপূণ্যে হয়েছিলেন ম্যাচসেরা। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ইমরুল কায়েসের ১১১ বলে ৭৬ রানের ইনিংসের সুবাদে ৭ উইকেটে ২৩৬ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। জবাবে জোনাথন ট্রটের ৯৪ রানের ইনিংস সত্ত্বেও ২৩১ রানে গুটিয়ে যায় ইংলিশরা। ব্যাট হাতে ২৫ বলে ২২ ও বল হাতে ৪২ রানে ২ উইকেট নিয়ে মাশরাফি হয়েছিলেন ম্যাচসেরা। কাল? নিয়তি বা ভাগ্য যাই বলি, এবারও সেই মাশরাফিই অধিনায়ক। মিল আছে আরও। সেই ম্যাচে খেলা ১১ জনের মধ্যে ৭ জনই আছেন এই দলে। তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ আছেন। আছেন মাশরাফি, রুবেল এবং শফিউলও। সেই ম্যাচে ইংলিশদের ২৩১রানে অল আউট করতে বাংলাদেশের পাঁচ স্পেশালিস্ট বোলারই দারুণ বোলিং করেছিলেন। পাঁচ জনেই নিয়েছিলেন সমান দুটি করে উইকেট। মানে পুরো একটা ইউনিট হয়েই সেদিন একসঙ্গে জ্বলে উঠেছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। ওভালেও জিততে হলে এক সঙ্গে জ্বলে উঠতে হবে সবাইকে। মাশরাফিরা পারবেন, ৭ বছর আগের সেই ম্যাচের মতো এক সঙ্গে জ্বলে উঠে ইংলিশদের আরেক বার তাদের মাটিতেই বধ করতে?
কের একাদশটা ঠিক কেমন হবে, এখনো নিম্চিত নয়। তবে একটা ধারণা পাওয়াই যাচ্ছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে বল হাতে তেমন সুবিধা করতে পারেননি তাসকিন আহমেদ। গতকাল ভারতের বিপক্ষে তার জায়গা নেওয়া রুবেল হোসেন দারুণ বোলিং করেছেন। কাজেই তাসকিনের চেয়ে রুবেলের একাদশে জায়গটা পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ৪ পেসার নিয়ে নামলে অবশ্য থাকতে পারেন দুজনেই। কিন্তু সেই সম্ভাবনা খুবই কম। তবে একাদশে যারাই থাকুন, ইংলিশ কন্ডিশনে প্রত্যাশিত ফল পেতে হলে পেসারদেরই পালন করতে হবে মুখ্য ভূমিকা। মাশরাফি, মোস্তাফিজ, রুবেলরাও নিশ্চয় দারুণ কিছু করতে প্রস্তুত?
বাংলাদেশকে ভাবতে হচ্ছে ব্যাটিং নিয়েও। ভাবাচ্ছে আসলে ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ। গতকাল ওভালের মাঠে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা যে হতাশার চিত্রনাট্য তৈরি করলেন, তার কোনো ব্যাখ্যা হয় না। এটা তো প্রস্তুতি ম্যাচ-এ কথা বলেও তা আড়াল করা যাচ্ছে না। প্রস্তুতি ম্যাচ বলেই ৮৪ রানে অল আউট হতে হবে এর কোনো মানে নেই। কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংকে তাই ব্যাটসম্যানদের নিয়ে আলাদা করে ভাবতেই হচ্ছে। ব্যাটিংয়ের হতাশা তো আছেই, অন্য একটা প্রশ্নও থাকছে। কাল ওভালে মাঠে নামার আগে মাশরাফি-মুশফিকদের শরীরে ক্লান্তি ভর করবে না তো?
বৃহস্পতিবারই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ম্যাচ, তার মাত্র এক দিন আগে কী দরকার ছিল ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচটা খেলার? তবে সেই প্রশ্ন তুলে এখন আর লাভ নেই। এখন যেটা দরকার, ব্যাটসম্যানদের মন থেকে প্রস্তুতি ম্যাচের হতাশার ভূতটা তাড়িয়ে নতুন করে উজ্জীবিত করতে হবে। সেই কাজটা করতে হবে ব্যাটসম্যানদেরই। পাশে থেকে পরামর্শকের ভূমিকা পালন করতে হবে কোচ হাথুরুসিংকে।
নিজেদের ঘরের মাটিতে বলে ইংলিশদের ভাবা হচ্ছে শিরোপার দৌড়ে টপ ফেবারিট। সেই ইংলিশদের হারিয়ে জয় দিয়ে শুরু করতে পারলে বাংলাদেশ স্বপ্ন পূরণের পথে পেরোতে পারবে বড় একটা ধাপ। মাশরাফিরা পারবেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *