১২৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারল পাকিস্তান

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটকম, ঢাকা: চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১২৪ রানের বিশাল ব্যবধানে জিতলো ভারত। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রানের পাহাড় গড়েছে ভারত। বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে নির্ধারিত ৪৮ ওভারে মাত্র তিন উইকেট হারিয়ে ৩১৯ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে তোলে ভারত। রোববার টস জিতে ভারতকে ব্যাট করতে আমন্ত্রণ জানান পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে পারেননি পাক বোলাররা। কোহলি-যুবরাজদের ঝড়ে কেবল তাদের কেবল অসহায়ও মনে হয়েছে।

ভারতের প্রথম চারজন ব্যাটসম্যানের প্রত্যেকেই হাফ সেঞ্চুরি করার পর অর্ধেক ম্যাচ হেরে বসেছিল পাকিস্তান। বাকি অর্ধেক হারল তারা ব্যাটিং ব্যর্থতায়।

বারবার ম্যাচে বিঘœ ঘটিয়েছে বৃষ্টি। ভারত প্রথমে ব্যাট করে তিন উইকেটে ৩১৯ রান তোলে ৪৮ ওভারে। বৃষ্টির দরুন প্রথম দফা পাকিস্তানের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৮ ওভারে ৩২৪।

আবারও বৃষ্টি বিঘœ ঘটালে নতুন লক্ষ্য হয় ৪১ ওভারে ২৮৯। ধুঁকতে ধুঁকতে তারা ১৬৪ রানে অলআউট হয় ৩৩.৪ ওভারে।

বার্মিংহামের এজবাস্টনে রোববার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির এই ‘মেগা ম্যাচ’ শেষ পর্যন্ত একপেশে ম্যাচে পরিণত হয় ভারতের ১২৪ রানের বিশাল জয়ে (ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে)।

পাকিস্তানের ইনিংসেন আজহার আলীর একমাত্র ফিফটি (৫০) ছাড়া বলার মতো রান মোহাম্মদ হাফিজের ৩৩। উমেশ যাদব তিনটি এবং পান্ডিয়া ও জাদেজা দুটি করে উইকেট নেন। ম্যাচসেরা হন যুবরাজ।
এই ম্যাচ নিয়ে উৎকণ্ঠার অপেক্ষায় ছিল গোটা ক্রিকেটবিশ্ব। কিন্তু ভারত-পাকিস্তান মহারণের প্রথমভাগের লড়াইটা হল বড় একপেশে। দু’দলের শক্তির ফারাকটা চোখে আঙুল দিয়েই দেখিয়ে দিল ভারত।

রোববার এজবাস্টনে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মেগা ম্যাচে পাকিস্তানি বোলারদের কাঁদিয়ে ছাড়লেন ভারতের ব্যাটসম্যানরা। দুই দফা বৃষ্টিতে ৪৮ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ভারত চার ফিফটিতে তিন উইকেটে ৩১৯ রানের পাহাড় গড়ে।

ফিফটি পেয়েছেন রোহিত শর্মা (৯১), শিখর ধাওয়ান (৬৮), অধিনায়ক বিরাট কোহলি (৮১*) ও যুবরাজ সিংহ (৫৩)। শেষদিকে তিন ছক্কায় ছয় বলে অপরাজিত ২০ রানের আরেকটি টর্নেডো ইনিংস খেলেন হার্দিক পান্ডিয়া।

ধীরলয়ে শুরু করা ভারত শেষ আট ওভারে যুবরাজ, কোহলি ও পান্ডিয়ার তাণ্ডবে তুলেছে ১০৬ রান। শেষ চার ওভারে ৭২। ইমাদ ওয়াসিমের করা শেষ ওভারেই এসেছে ২৩ রান। পাকিস্তানের কোনো বোলারই রেহাই পাননি।

চোট নিয়ে মাঠ ছাড়া ওয়াহাব রিয়াজ ৮.৪ ওভারে দিয়েছেন ৮৭ রান। ৮.১ ওভারে ৩২ রান দিয়ে আমিরও মাঠ ছেড়েছেন চোট নিয়ে। আরেক পেসার হাসান আলী ১০ ওভারে ৭০ রান দিয়ে পেয়েছেন এক উইকেট।

১০ ওভারে ৫২ রান দিয়ে এক উইকেট নেয়া তরুণ স্পিনার শাদাব খানই পাকিস্তানের সফলতম বোলার। ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা শুরুতে গুটিয়ে রেখেছিলেন নিজেদের।

পাকিস্তানি বোলারদের সামনে নিজেদের তেমনভাবে মেলে ধরতে পারেননি তারা শুরুতে। মোহাম্মদ আমিরের প্রথম ওভার মেডেন। দ্বিতীয় ওভারে তিন রান। বোলার ছিলেন ইমাদ ওয়াসিম। পঞ্চম ওভার শেষে ভারত বিনা উইকেটে ১৫।

আর আট ওভারে রান ছিল ৩২/০। নবম ওভারের পর একটু হাত খুলে খেলেন দুই ভারতীয় ওপেনার রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ান। দশম ওভারে বৃষ্টির বাধায় খেলা বন্ধ।

খেলা আবার শুরু হলে রোহিত শর্মা ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের ৩০তম হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। তার আগে ম্যাচের প্রথম ছক্কা হাঁকান তিনি শাদাব খানের বলে। রোহিতের পর শিখর ধাওয়ানও ফিফটি পূর্ণ করেন। তার ১৮তম হাফ সেঞ্চুরি।

২০ ওভার শেষে ভারত ১১০/০। পাকিস্তানকে প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দেন স্পিনার শাদাব। ডিপ মিডউইকেটে আজহার আলীর ক্যাচে পরিণত হয়ে ধাওয়ান সাজঘরে ফেরেন। তার পুঁজি ৬৫ বলে ৬৮ রান। ছয়টি চার ও একটি ছয়।

২৫ ওভারে ভাঙে ১৩৬ রানের উদ্বোধনী জুটি। দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটে ৩৭তম ওভারে। ১১৯ বলে ৯১ করে রানআউটে কাটা পড়েন রোহিত শর্মা। এরপর কোহলি ও যুবরাজের ৯৩ রানের বিস্ফোরক জুটি।

আট রানে জীবন পাওয়া যুবরাজ মাত্র ২৯ বলে তুলে নেন ফিফটি। শেষ পর্যন্ত আট চার ও এক ছক্কায় ৩২ বলে ৫৩ রানে থামেন তিনি। শুরুতে নিজেকে গুটিয়ে রাখা কোহলি ফিফটির আগে একবার জীবন পাওয়ার পর খেলেছেন হাত খুলে।

শেষ পর্যন্ত ছয় চার ও তিন ছক্কায় ৬৮ বলে ৮১ রান করে অপরাজিত ছিলেন ভারত অধিনায়ক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *