কাশ্মিরের অহিষ্ণু পরিস্থিতি

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটকম, ভারত থেকে: ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শাসনামলে ক্রমবর্ধমান ‘অসহিষ্ণুতা’ নিয়ে এবার সোচ্চার হয়েছেন সাবেক আমলারা। দেশের ৬৫ জন অবসরপ্রাপ্ত আমলা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে শামিল হয়েছেন। কড়া সুরে লেখা একটি খোলা চিঠিতে দেশে অসহিষ্ণুতা, উগ্র জাতীয়তাবাদ, আগ্রাসী মনোভাব, নজরদারি, গো-রক্ষকদের তাণ্ডব, বিরুদ্ধ মনোভাবাপন্ন নাগরিক বা ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযানসহ নানা প্রসঙ্গে সাবেক আমলারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বাড়িতে গরুর গোশত রাখার সন্দেহে উত্তর প্রদেশের দাদরিতে মুহাম্মদ আখলাককে গণপিটুনিতে হত্যা, উত্তর প্রদেশে যোগী আদিত্যনাথ সরকারের আমলে  অ্যান্টি-রোমিও স্কোয়াডের বাড়াবাড়ির উদাহরণও দিয়েছেন। এছাড়া জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়, হায়দরাবাদে ছাত্র বিক্ষোভ নিয়ে সরকারি দৃষ্টিভঙ্গির নিন্দা করেছেন।
যোজনা কমিশনের সাবেক সচিব এন সি সাক্সেনা থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের সাবেক আইএএস জহর সরকার, অর্ধেন্দু সেনরা বলেছেন, যুক্তিবাদী বিতর্ক, আলোচনা বা বিরুদ্ধ মতকে জায়গাই দেওয়া হচ্ছে না। তারা এ সংক্রান্ত এক খোলা চিঠিতে সই করেছেন। সমস্ত সরকারি, নাগরিক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাদের দাবি, এই স্বৈরতান্ত্রিক ও দমনমূলক প্রবণতা সংশোধনের চেষ্টা হোক।সাবেক আমলাদের এ ধরণের তৎপরতা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পক্ষে বড় অস্বস্তির কারণ হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
দেশে ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টির প্রমাণ হিসেবে সাবেক ওই আমলারা উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ‘শ্মশান-কবরস্থান’, ‘রমজান-দীপাবলি’ নিয়ে মন্তব্য তুলে ধরেছেন। প্রধানমন্ত্রী সেসময় বলেছিলেন, গ্রামে কবরস্থান তৈরি হলে শ্মশানও হওয়া উচিত। রমজানে বিদ্যুৎ এলে দীপাবলিতেও আসা প্রয়োজন।
ভারতে ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের সময় ইতোপূর্বে কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী এবং সুশীল সমাজের মানুষজন অসহিষ্ণুতার অভিযোগে পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। কিন্তু এবার দেশের শীর্ষপদে থাকা সাবেক আমলারা অসহিষ্ণুতার অভিযোগে সোচ্চার হয়েছেন।
এদিকে, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দলিত ছাত্র রোহিত ভেমুলার আত্মহত্যা, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র বিক্ষোভ এবং কাশ্মির উপত্যকার পরিস্থিতি নিয়ে তথ্য চিত্রে ছাড়পত্র দিতে অস্বীকার করেছে।
১৬ জুন থেকে শুরু হতে চলা কেরালায় আন্তর্জাতিক তথ্যচিত্র ও স্বল্প দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র উৎসবে এই তিনটি বিষয়ের উপর আলাদা আলাদা ছবি প্রদর্শনের কথা ছিল। কেরালা চলচিত্র একাডেমীর চেয়ারম্যান কমল ওই ঘটনাকে ‘সাংস্কৃতিক জরুরি অবস্থা’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, নেতা-ই ঠিক করবে আমরা কী খাব, কী পরব, কী কথা বলব।আয়োজকদের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ের কাছে ছাড়পত্রের জন্য ২০০ ছবি পাঠানো হলেও ওই ৩টি ছবিকে কোনো কারণ না দেখিয়েই ছাড়পত্র দিতে অস্বীকার করা হয়েছে।

সূত্র: পার্সটুডে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *