ইফতারের আগে তো দোয়া-দরুদ হবে, কীসের ভাষণ: কাদের

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটকম: ইফতারির আলোচনায় নেতাদের লম্বা বক্তব্যে উষ্মা প্রকাশ করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ সময় তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকেও একই সমালোচনায় বিদ্ধ করেন। রোববার বিকালে রাজধানীর লেডিজ ক্লাবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা ও ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কাদের।
ইফতার শুরু হওয়ার ঠিক ১০ মিনিট আগে বক্তব্য দিতে মঞ্চে আসেন তিনি। এর আগে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ডা. আবদুর রাজ্জাক, যুগ্ম-সাধারণ ডা. দিপু মনি, মাহবুব-উল আলম হানিফ, খাদ্যমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলামসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা বক্তব্য দেন।
পরে বক্তব্য দিতে এসে ওবায়দুল কাদের বলেন, আপনারা আমাদের নেত্রীকে অনুসরণ করছেন না কেন? তাকে অনুসরণ করলে দেখবেন তিনি ইফতারের আগে কোনো ভাষণ দেন না। ইফতারের আগে তো দোয়া-দরুদ হবে, কীসের ভাষণ?
ক্ষুব্ধ স্বরে তিনি বলেন, ইফতারের আগে বক্তব্য দেন কেন? ইফতারের আগে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য হবে না। কাদের বলেন, আপনারা লম্বা বক্তব্য দেন, বিএনপি নেতাদের মতো…। বিএনপির চেয়ারপারসন যেমন ইফতারি সামনে নিয়ে মিথ্যাচার করেন। ইফতারে রাজনৈতিক বক্তব্য দেবেন না।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আপনারা নেত্রীকে অনুসরণ করেন। তাকে কখনোই আমি ইফতারির আগে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে দেখিনি। আপনারা তাকে ফলো করেন। তার প্রতি এভাবেও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা যায়।
এ সময় সাংবাদিকরা বিএনপির সহায়ক সরকারের দাবির বিষয়ে প্রশ্ন করলে সরকারের এই মন্ত্রী বলেন, এই উত্তর আমি সকালে বুয়েট ছাত্রলীগের অনুষ্ঠানে দিয়েছি। আর বলবো না, এক কথা আমি বারবার বলি না।
আওয়ামী লীগের পরিচয় ব্যবহার করে গজিয়ে ওঠা নামস্বর্বস্ব সংগঠনগুলোর ইফতার বাণিজ্য নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন ওবায়দুল কাদের।
দলের নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, চাঁদাবাজির দোকানগুলো বন্ধ করে দিন। ওইসব দোকানে যাবেন না। তাদের ইফতারিতে গিয়ে তাদেরকে উৎসাহিত করবেন না।
কাদের বলেন, তারাও ইফতার করে, দাওয়াত নিয়ে আসে। দোকান থেকে চাঁদাবাজি করে এরা ইফতার করে। এসব দোকানে যাবেন না। চাঁদাবাজির দোকানগুলো বন্ধ করে দিন।
এর আগেও এসব সংগঠনের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকবার সমালোচনায় সোচ্চার কাদের। সম্প্রতি এ ধরণের সংগঠনের অনুষ্ঠান কিছুটা কমে গেলেও চিহ্নিত সংগঠনগুলো সরব রয়েছে। এসব সংগঠনে অতীতের মতই দল ও সরকারের দায়িত্বশীলরা অতিথি হিসেবে উপস্থিত হচ্ছেন।
কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের প্রচার ডিপার্টমেন্ট অত্যন্ত স্ট্রং, এরপরও প্রচার লীগ নামের এক ভূঁইফোড় সংগঠন গড়ে উঠেছে। তরুণদের জন্য যুবলীগ রয়েছে, এরপরও তরুণ লীগ, আরও কি কি দোকান চালু হয়েছে।
তিনি বলেন, এইসব দোকান, চাঁদাবাজির দোকান, ভূঁইফুড় সংগঠন বন্ধ করে দিতে পারলে দল, দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য ভাল হতো। এ কাজটা করতে পারলে আমরা একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবো।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *