৩ পার্বত্য জেলায় পাহাড় ধসে ২১ জনের প্রাণহানি

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটকম, ঢাকা: নিম্নচাপের প্রভাবে প্রবল বর্ষণের পর পাহাড় ধসে বাংলাদেশের পার্বত্যজেলা রাঙামাটি, চট্টগ্রাম ও বান্দরবানে ২১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে রাঙামাটিতে ১০ জন, বান্দরবানে সাতজন ও চট্টগ্রামে চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এসব লাশ উদ্ধার করা হয়।
রাঙামাটি: রাঙামাটি শহরে আটজন ও কাপ্তাই উপজেলায় দু’জন নিহত হয়েছেন। আজ সকালে জেলা শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে আটটি লাশ উদ্ধার করে রাঙামাটি সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। নিহতরা হলেন- শহরের যুব উন্নয়ন ও ভেদভেদি এলাকার রুমা আক্তার, নুড়িয়া আক্তার, হাজেরা বেগম, সোনালী চাকমা, অমিত চাকমা, আইয়ুস মল্লিক, লিটন মল্লিক, চুমকি দাস।
এদিকে, জেলার কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের কারিগরপাড়া এলাকায় পাহাড় ধসে অনুচিং মারমা (৩০) ও নিকি মারমা নামের দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছায়া মং মারমা।এ ছাড়া উপজেলায় গাছচাপা পড়ে আবুল হোসেন নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। উপজেলার কর্ণফুলী নদীতে ইকবাল নামের এক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন।

রাঙামাটিতে পাহাড় ধস
চট্টগ্রাম: চন্দনাইশ উপজেলায় পাহাড় ধসে শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দু’জন। গতকাল সোমবার রাতে উপজেলার ধোপাছড়ি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

ধোপাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু ইউছুপ চৌধুরী জানান, পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী আসগর আলীর কাঁচা ঘরের ওপর মাটি ধসে পড়ে। এ ঘটনায় আজগর আলীর শিশুকন্যা মাহিয়া মাটির নিচে চাপা পড়ে মারা যায়। এ ছাড়া ছনবুনিয়া উপজাতিপাড়ায় একটি ঘরের ওপর পাহাড় ধসে একই পরিবারের দুই শিশু কেউচা কেয়াং (১০), মেমাউ কেয়াং (১৩) এবং গৃহবধূ মোকাইং কেয়াং (৫০) নিহত হন।

এ ঘটনায় ওই পরিবারের সানুউ কেয়াং (২১) ও বেলাউ কেয়াং (২৮) নামের আরো দু’জন আহত হয়েছেন। তাঁদের বান্দরবান হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউছুপ চৌধুরী।

 

বান্দরবানে একই পরিবারের তিন শিশু নিহত
বান্দরবান: টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে বান্দরবানে একই পরিবারের তিন শিশুসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। আজ ভোরে বান্দরবানের লেমুঝিরি ভিতরপাড়া থেকে একই পরিবারের তিন শিশু, আগাপাড়ায় মা-মেয়ের এবং কালাঘাটায় এক কলেজছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী স্টেশন অফিসার স্বপন কুমার ঘোষ।নিহতরা হলেন- লেমুঝিরির বাসিন্দা সমুন বড়ুয়ার তিন সন্তান শুভ বড়ুয়া (৮), মিতু বড়ুয়া (৬) ও লতা বড়ুয়া (৪), মোকা খিয়াং (৫৫) ও তার দুই নাতি মারমা উখিয়াং (১৩) ও কিয়োসা খিয়াং (৯) এবং কালাঘাটার কলেজছাত্র রেবা ত্রিপুরা (১৮)।
এছাড়া, আগাপাড়ার কামরুন নাহার (৪৫) ও তাঁর মেয়ে সুখিয়া আক্তার (১২) এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।এদিকে, অব্যাহত বর্ষণে ভোররাতে বাজালিয়ায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে গত রোববার থেকে বান্দরবানে টানা ভারি বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। বর্ষণে বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কের বাজালিয়া, রাঙামাটি সড়কের পুলপাড়া বেইলি ব্রিজ তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। #

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *