পাহাড়ে বিপর্যয়: মৃত্যুর মিছিলে তিন জেলার ১৩৪ জন

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটকম, ঢাকা: টানা দুই দিনের প্রবল বর্ষণে চট্টগ্রাম বিভাগের তিন জেলায় পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। তিন জেলায় পাহাড় ধসে ৪ সেনা সদস্যসহ নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। আরো বহু আহত এবং নিখোঁজ রয়েছে।

এর মধ্যে রাঙামাটিতে ১০০ জন, চট্টগ্রামে ২৭ জন ও বান্দরবানে ৭ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সব জায়গায় মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আলো স্বল্পতার কারণে রাতে উদ্ধার অভিযান স্থগিত রাখা হয়। বুধবার সকালে ফের উদ্ধার অভিযান শুরু হবে বলে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

 

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে রাঙামাটিতে। সেখানে সর্বশেষ ১০০ জন নিহত হবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাঙামাটির পুলিশ সুপার। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে। এ ছাড়া নিহতদের মধ্যে সেনাবাহিনীর চার জন সদস্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাঙামাটির পুলিশ সুপার। তারা মানিকছড়ি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন।

এদিকে তিন জেলায় এই হতাহত এবং নিখোঁজের ঘটনায় স্বজন হারানো মানুষের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। স্বজনদের আর্তনাতে অন্যরকম বেদনাবিদুর দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে।

ঢাকায় আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর আইএসপিআর জানায়, রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসের উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর সময় মঙ্গলবার দুজন সেনা কর্মকর্তাসহ চারজন সেনাসদস্য নিহত হন।

রাঙ্গামাটির মানিকছড়িতে একটি পাহাড় ধসে মাটি ও গাছ পড়ে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়ক বন্ধ হয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে রাঙ্গামাটি জোন সদরের নির্দেশে মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনীর একটি দল ওই সড়কে চলাচল স্বাভাবিক করতে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালীন আনুমানিক বেলা ১১টায় উদ্ধার কাজের সংলগ্ন পাহাড়ের একটি বড় অংশ উদ্ধারকারীদলের সদস্যদের ওপর হঠাৎ ধসে পড়ল তারা মূল সড়ক থেকে ৩০ পুট নিচে পড়ে যান।

পরবর্তীতে খবর পেয়ে একই ক্যাম্প থেকে আরো একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজন সেনা কর্মকর্তাসহ চার জন সেনাসদস্যের লাশ এবং ১০ জন সেনাসদস্যকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক মঙ্গলবার বিকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং উদ্ধার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। তিনি হতাহত সকল সেনাসদস্য ও তাদের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

আইএসপিআর আরো জানায়, গত তিন দিনের প্রবল বর্ষণের ফলে সোমবার থেকেই পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধস শুরু হয়। এতে করে পাহাড়ি এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং পাহাড় ধসের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের জন্য বিভিন্ন সেনা ক্যাম্পের সদস্যরা সোমবার থেকেই উদ্ধার কাজে অংশগ্রহণ করেন।

আহত সেনা সদস্যদের মধ্যে পাঁচ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়।

অন্যদিকে উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর সময় ভূমিধসে সেনাসদস্য সৈনিক মো. আজিজুর রহমান এখনো পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন বলে আইএসপিআর জানিয়েছে।

রাঙামাটির পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, সেখানে মঙ্গলবারও প্রবল বৃষ্টিপাত হয়। বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
ফলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পায়ে হেঁটে বিভিন্ন এলাকায় যেতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সস্পর্কে পরিষ্কার চিত্র পেতে আরো অপেক্ষা করতে হবে।

বান্দরবানের পুলিশ সুপার সঞ্চিত কুমার বিবিসিকে বলেন, প্রবল বর্ষণে ভূমি ধসের সাথে গাছপালা ভেঙ্গে পড়েছে।
জেলার অধিকাংশ জায়গায় কোনো বিদ্যুৎ নেই। উদ্ধারকাজের জন্য বিভিন্ন জায়গায় সেনাবাহিনীর সদস্যরাও যোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সঞ্চিত কুমার।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রবিবার এবং সোমবার টানা ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন জায়গায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। ফলে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী অনেক বাড়ি মাটি চাপা পড়েছে।

তবে চট্টগ্রামে পাহাড় ধসের ঘটনা নতুন নয়। ২০১২ সালের জুন মাসের অন্য একটি পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে যাতে প্রায় ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *