মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ছবি তুলল উ. কোরিয়ার ড্রোন

টাইমস আই বেঙ্গলী ডকটম: দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাড’র ছবি তুলে দেশে ফেরার পথে উত্তর কোরিয়ার একটি ড্রোন বিধ্বস্ত হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে থাড ব্যবস্থার অন্তত ১০টি ছবি তুলতে পেরেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দেশটির ইয়োনহ্যাপ বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, সেদেশের গ্যাংওয়ান প্রদেশের একটি পাহাড়ে গত শুক্রবার স্থানীয়রা একটি ড্রোন পড়ে থাকতে দেখেন।

ধারণা করা হচ্ছে, উত্তর কোরিয়া থেকে পাঠানো ড্রোনটি দেশে ফেরার পথে জ্বালানী ফুরিয়ে আসার কারণে ভেঙে পড়েছে। এরপর এটি পরীক্ষা করে থাড ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রায় ১০টি ছবি পেয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞরা।

দেশটির একজন সেনা কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেছেন, “ড্রোনটি সিয়োংজু এলাকায় মোতায়েন থাড ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ছবি তুলেছে বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি।”

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এপিকে জানিয়েছেন, ড্রোনটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে ছবিগুলো উত্তর কোরিয়ায় পাঠিয়ে দিতে পেরেছিল কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

উত্তর কোরিয়া এখনো এ খবরের ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে গতমাসে দেশটি আকাশ থেকে তোলা থাড ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার অন্তত দু’টি ছবি প্রকাশ করে বলেছিল, আমেরিকা এই ব্যবস্থাকে পিয়ংইয়ং’র আয়ত্বের মধ্যে এনে মোতায়েন করেছে। তখন ধারণা করা হয়েছিল, ছবিগুলো স্যাটেলাইট থেকে তুলেছে উত্তর কোরিয়া।

স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে তা আকাশেই বিধ্বস্ত করে দেয়ার লক্ষ্যে থাড ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি করেছে আমেরিকা।

উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার জের ধরে গত বছর এই ব্যবস্থা মোতায়েনে সম্মত হয় দক্ষিণ কোরিয়া। চলতি বছরের এপ্রিলে এটির একাংশ উত্তর কোরিয়ার সীমান্ত থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরে মোতায়েন করা হয়েছে।

তবে দক্ষিণ কোরিয়ার নয়া প্রেসিডেন্ট থাডের বাকি অংশ মোতায়েন স্থগিত রেখে পরিবেশের ওপর এর ক্ষতিকারক প্রভাব খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন।

উত্তর কোরিয়া এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনকে ‘উস্কানিমূলক’ বলে আখ্যায়িত করেছে এবং চীনও এর তীব্র সমালোচনা করেছে।

সূত্র: পার্সটুডে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *