রোহিঙ্গাদের ত্রাণ মেরে বিত্তবান

কক্সবাজার প্রতিনিধি : মিয়ানমারের নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর অপর নাম রোহিঙ্গা মুসলিম। দেশটির সেনাবাহিনীর হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন থেকে বাঁচতে জন্মভূমি রাখাইন রাজ্য ছেড়ে পাড়ি জমান প্রতিবেশী দেশগুলোতে। বাংলাদেশের কক্সবাজার এলাকাতেও রয়েছে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা। নিবন্ধিত ক্যাম্প ছাড়াও অনিবন্ধিত এবং লোকালয়ে জনতার সঙ্গে রয়েছে তাদের বসবাস।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া এসব মুসলিম শরণার্থীদের পুনর্বাসন, জীবনমান উন্নতকরণে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন আর্থিক অনুদান দিয়ে থাকে। কিন্তু তাদের অনুদানের এই অর্থ ও ত্রাণ আত্মসাতে তৎপর স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।
এই তালিকায় আছেন রাজনীতিক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ থেকে এনজিও। রোহিঙ্গাদের ত্রাণের টাকা মেরে এদের অনেকেই আঙুল ফুলে কলা গাছ বনে গেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে পাঁচটি শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছে মিয়ানমার থেকে নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা।
সরকারি হিসাবে, উখিয়ার কুতুপালং ও টেকনাফের নয়াপাড়া নিবন্ধিত ক্যাম্পে ৩০ হাজার রোহিঙ্গা বসবাস করছে।
নিবন্ধিত এসব রোহিঙ্গারা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দাতা সংস্থা থেকে সহায়তা পেয়ে থাকেন। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্য ও বাসস্থান নিয়ে তাদের তেমন একটা চিন্তা করতে হয় না।
এই ৩০ হাজার নিবন্ধিত রোহিঙ্গার বাইরে উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালি ও টেকনাফের লেদার তিনটি অনিবন্ধিত ক্যাম্প মিলে ৩ লাখের বেশি মুসলিম রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বসবাস করছে।
এসব অনিবন্ধিত শরণার্থীরা দারিদ্রসীমার নিচে অবস্থান করছে। তাদের দুর্দশার শেষ নেই। শরণার্থী হয়েও তারা আন্তর্জাতিকভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। শুধুমাত্র আইওএম অনিবন্ধিত বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাদের স্বল্প পরিসরে সহযোগিতা দিয়ে আসছে।

তবে বিভিন্ন দেশের অনেক বিত্তবান, প্রবাসী বাংলাদেশি ও প্রতিষ্ঠান মুসলিম রোহিঙ্গাদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর রোহিঙ্গাদের জন্য আসা এসব বেসরকারি ও ব্যক্তিগত অনুদান লুটের মচ্ছব চলছে।
গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যে তারই চিত্র উঠে এসেছে। সেখানে কয়েকটি পর্যায়ে এসব লুটের অর্থ ভাগ-বাটোয়ারা দেখানো হয়েছে। রোহিঙ্গাদের জন্য আসা অনুদান প্রথমে আত্মসাৎ করে যারা এটি সংগ্রহের দায়িত্বে থাকেন, তারাই। তারা বিশ্ববাসীর কাছে রোহিঙ্গাদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে অর্থ এনে এর বড় অংশ নিজ পকেটেই রেখে দিচ্ছেন।
এরপরে সরকারি অনুমোদনের কথা বলে এনজিও ব্যুরো, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা এমনকি পুলিশও অনুদান থেকে নিজেদের বখরা আদায় করে নেয়।
উখিয়া-টেকনাফের বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি, সরকারি দলের নেতারা রোহিঙ্গাদের ত্রাণ থেকে কমিশন নিয়ে থাকেন। কমিশন না দিলে শরণার্থীদের মাঝে দান ও ত্রাণ দিতে বাধা দেওয়া হয়।
এর ফলে যেখানে রোহিঙ্গাদের ২০ কেজি চাল পাওয়ার কথা, সেই চাল কখনো ৫ কেজি করে পাচ্ছেন তারা।
এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম’র কর্মকর্তা সৈকত বিশ্বাস জানান, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণে স্থানীয় প্রভাবশালীরা প্রায়ই হস্তক্ষেপ করে থাকেন। কিছুদিন আগে তো এক প্রভাবশালীর বাড়ি থেকে রোহিঙ্গাদের বিপুল পরিমাণ ত্রাণ উদ্ধারও করা হয়।
উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মইন উদ্দিন জানান, সরকারি অনুমোদন ছাড়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাঝে ত্রাণ বিতরণের নিয়ম নেই। এনজিও ব্যুরোর অনুমোদন নিয়ে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে শরণার্থী শিবিরে ত্রাণ দিলে সুষ্ঠু বণ্টন সম্ভব।
তিনি সবাইকে সরকারিভাবে অনুমোদন নিয়ে ত্রাণ বিতরণ করার জন্য আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *