রাজনীতির ঈদ, নির্বাচনের ঈদ

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটকম, ঢাকা: ২০১৯ সালের প্রথম দিকেই বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন এরইমধ্যে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে৷ প্রস্তুতি আছে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেই৷ এবার বিএনপি নির্বাচনে যাবে বলেই আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ঈদের পর জুলাই থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন৷ আর এই সংলাপ চলবে টানা নভেম্বর পর্যন্ত। গত ২৪ মে নির্বাচন কমিশন রোডম্যাপ ঘোষণা করে সংলাপের৷ আর তাতে তারা সাতটি বিষয়েকে সংলাপে অন্তর্ভূক্ত করেছে৷ সীমানা পুনঃনির্ধারণ, আইন সংস্কার, ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নতুন নিবন্ধন, ভোটকেন্দ্র, ইসির সক্ষমতা বাড়ানো ও সবার জন্যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি-এগুলো হলো সংলাপের বিষয়৷ এবারের নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহার করা হবেনা৷ তাই রোডম্যাপে ইভিএম রাখা হয়নি৷
নির্বাচন কমিশনের এই সংলাপে রাজনৈতিক দল ছাড়াও সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম, পর্যবেক্ষকরাও অংশ নেবেন৷ শুধু নির্বাচন কমিশন নয়, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখন নির্বাচনের হাওয়া৷ দেড় বছর সময় থাকলেও সব বড় দলই এখন থেকেই নির্বাচনের আগাম কাজ শুরু করে দিয়েছে৷ তাই এবারের ঈদ তাদের কাছে গণসংযোগ শুরুর জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে, এবার পুরো রমজান মাসকে বিএনপি কাজে লাগিয়েছে৷ বিএনপি দলীয় সূত্র জানায় ইফতার পার্টিতে সমমনা দলগুলোকে দাওয়াত দেয়া, কূটনীতিকদের দাওয়াত দেয়া এরই অংশ। তারা এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে একই ধরনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গণসংযোগ করেছে। ঈদেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে৷ বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ বলেন, ‘‘আমাদের নেতা-কর্মীদের বড় একটি অংশ এরইমধ্যে যার যার এলাকায় চলে গেছেন৷ শুধু নির্বাচনই টার্গেট নয়, আমাদের অনেক নেতা-কর্মী মামলা হামলার শিকার হয়েছেন তাদের পাশে দাড়ানোও আমাদের দায়িত্ব।”
বিএনপি পুরো রমজান মাসজুড়েই সারাদেশে নানা প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করেছে৷ সাধারণ মানুষকে সহায়তা করা। ইফতার করানো এসব কাজ করেছে৷ এর বাইরে ঈদকে সামনে রেখে বড় ধরনের টার্গেটে নিয়েছে৷ তাই যারা সামনের নির্বাচনে মনোনয়ন চান বা আগে এমপি ছিলেন তারা এবার যার যার নির্বাচনী এলাকায়ই ঈদ করবেন। শামা ওবায়েদ বলেন, ‘‘ঈদে অনেক বেশি মানুষের সঙ্গে দেখা হয়৷ কথা বলার সুযোগ হয়৷ নেতা-কর্মীরা এই সুযোগকে কাজে লাগাবেন৷ আর এটাতো সব রাজনৈতিক দলই করে।”
তিনি বলেন, ‘‘আমার নির্বাচনি আসন ফরিদপুর-২৷ আমি রোজার মাসে বেশ কয়েকবার এলাকায় গিয়েছি। আর ঈদে এলাকায়ই থাকব।” আওয়ামী লীগ এরইমধ্যে প্রার্থী বাছাই শুরু করে দিয়েছে৷ কেন্দ্র থেকে প্রতি আসনে অন্ততঃ তিনজন করে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই করছেন তারা৷ গত নির্বাচনে যারা এমপি হয়েছেন তাদের একটি অংশ এখন দলীয় নজরদারিতে আছেন। তারা ইমেজের উন্নতি ঘটাতে না পারলে সামনের নির্বাচনে মনোনয়ন নাও পেতে পারেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পদক ওবায়দুল কাদের এরইমধ্যে বলেছেন বিভিন্ন সংস্থার রিপোর্টে যাদের অবস্থা নেতিবাচক হবে তাদের মনোনয়ন দেয়া হবেনা৷ আর এরইমধ্যে এটা জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, এবার তরুণ নেতৃত্বের একটা বড় সুযোগ থাকবে৷ এসব কারণে এবার ঈদে আওয়ামী লীগের তৎপরতা অনেক বেশি থাকবে বলে মনে হচ্ছে।
আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘‘আমাদের দল থেকেই কেন্দ্রীয়ভাবে নির্দেশনা আছে যে ঈদের সময় এমপি, মন্ত্রী এবং নেতাকর্মীরা যেন যার যার এলাকায় থাকেন৷ এরইমধ্যে অনেকেই এলাকায় চলে গেছেন৷ যারা এখনো যাননি তারও যাবেন।” তিনি বলেন, ‘‘এর পরের ঈদ হবে নির্বাচনের ঠিক আগে৷ তাই এবারের ঈদটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ৷ যারা নির্বাচিত হয়েছেন এবং মনোনয়ন ধরে রাখতে চান, যারা নতুন করে মনোনয়ন চান তারা সবাই এবার ঈদে নিজ নিজ এলাকাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন৷” তিনি আরো বলেন, ‘‘সামনের নির্বাচনে তরুণ নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেয়া হবে৷ তাই মনোনয়ন প্রত্যাশী ছাত্রলীগের সাবেক শতাধিক নেতা যার যার এলাকায় রমজানে কাজ করেছেন৷ ঈদেও তারা জনসংযোগ করবেন।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ সাকিব বাদশা এরকমই একজন তরুণ নেতা। তার নির্বাচনী এলাকা পিরোজপুর-১৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি নিয়মিত এলাকায় যাই। এখনো এলাকায় আছি। ঈদও আমার এলাকায় করবো। আমি আমার দলের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গেই ঈদ করব৷ আমি তাদের পাশেই থাকতে চাই৷”
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘এই আসন থেকে আগামী নির্বাচনে আমি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী৷ আশা করি মনোনয়ন পাব।”
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে জাতীয় পার্টিও তাদের নেতাদের এলাকায়ই ঈদ করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে৷ এছাড়া জামায়াতসহ আরো অনেক রাজনৈতিক দল এবারের ঈদে আগামী নির্বাচনের জনসংযোগের সুযোগকে হাতছাড়া করবেনা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এদিকে, দক্ষিণের জেলা পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার সাংবাদিক দেবদাস মজুমদার জানান, ‘‘এবার রোজার শুরু থেকেই বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা সক্রিয় ছিলেন৷ তারা ইফতার মাহফিল ছাড়াও সাধারণ মানুষের মধ্যে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেন৷ এখন চলছে ঈদ সামগ্রী বিতরণ৷ তাদের টার্গেট সামনের নির্বাচন৷ আওয়ামী লীগ বা বিএনপি ছাড়াও ছোট ছোট রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও এখন এলাকায়৷ যারা এখনো আসেননি তারা ঈদের আগে চলে আসবেন।”
সূত্র: ডয়চে ভেলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *