‘প্রথম’ মুসলিম সমকামী বিয়ে করলেন বাংলাদেশি যুবক

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটকম, ঢাকা: যুক্তরাজ্যের ‘প্রথম মুসলিম’ হিসেবে সমকামী বিয়ে করেছেনে এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুবক। যুক্তরাজ্যের পশ্চিম মিডল্যান্ডের ওয়ালসাল শহরে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জাহেদ চৌধুরী এবং সিন রোগান বিয়ে করেন। মুসলিম সঙ্গীর অংশগ্রহণে এটিই যুক্তরাজ্যের প্রথম সমাকামী বিবাহ বলে দাবি করা হচ্ছে।
ওয়ালসাল শহরের বিবাহ রেজিস্ট্রি অফিসে পাঞ্জাবী-পাজামা পরে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন জাহেদ এবং রোগান। তাদের বিয়ের ফুটেজে তা দেখা গেছে। বিয়ের পর ২৪ বছর বয়সী জাহেদ সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস এ্যান্ড স্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে জানান, বাংলাদেশে থাকাকালীন পরিবারের কাছ থেকে সহায়তা পেতেন না তিনি। তা ছাড়া স্কুলে লাঞ্ছনার শিকার হতেন জাহেদ। এমনকি স্থানীয় মসজিদে তার প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হয় বলেও জানান তিনি।
পরবর্তীতে জাহেদ নিজের লিঙ্গ পরিবর্তনের চেষ্টা করেন। তা ছাড়া হজ্ব পালনে সৌদি আরবে যান। বাংলাদেশেও ধর্মীয় নিয়ম-কানুন পালনে সচেষ্ট হন তিনি। এক পর্যায়ে তিনি আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেন। সে সময় রোগানের সাথে দেখা হয় তার। রোগানকে দেখে জীবনের মানে খুঁজে পান তিনি। তারা ২০১৫ সাল থেকে একসাথে থাকা শুরু করেন। পরবর্তীতে জাহেদ গত বছর স্বামী রোগানের জন্মদিনে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন।

জাহেদ বলেন, ‘এই বিয়ের মাধ্যমে আমি সবাইকে দেখিয়ে দিলাম যে, আমি কোন কিছুর তোয়াক্কা করি না। আমার পরিবার বিয়ের দিন আসতে চায়নি। তারা আমাকে দেখতেও চায় না। তাদের কাছে এটা খুবই বিব্রতকর।’

জাহেদ বলেন, ‘আমার পরিবার মনে করে সমকামীতা একটা রোগ এবং এটি আরোগ্যযোগ্য। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আবার এটিকে জীবনের একটি ধাপ বলে বিবেচনা করেন। যারা এ ধরণের ধারণা পোষণ করেন তাদের সবাইকে আমি বলতে চাই, ঠিক আছে। আমরা পুরো বিশ্বকে দেখিয়ে দিতে চাই যে আপনি মুসলিম এবং সমকামি দুটিই হতে পারেন।’
জাহেদের স্বামী ১৯ বছর বয়সী রোগান সংবাদমাধ্যশ এক্সপ্রেস এ্যান্ড স্টারকে জানান, প্রত্যেকটা পদক্ষেপে সঙ্গীর পাশে দাঁড়াবেন তিনি। তিনি বলেন, ‘সমকামি হওয়া ভুল কিছু নয়। এটা কোন ধাপ নয়। মানুষের শুধু কিছুটা সমর্থণ দরকার।’

এর আগে যুক্তরাজ্যে মুসলিম সমকামী বিয়ের কথা শোনা না গেলেও এটিই দেশটির প্রথম মুসলিম সমকামী বিবাহ কিনা তা নিশ্চিত করেতে পারেনি সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান অফিস জানিয়েছে, ওই অঞ্চলের ভিন্ন ধর্মালম্বীদের বিয়ের তথ্য ধারাবাহিকভাবে রেকর্ড করা হয়নি। সেজন্য এ ধরণের বিয়ের ব্যাপারে সঠিক তথ্য দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
ইংল্যান্ডের গীর্জাসহ মসজিদ এবং অন্তত ৫০০টি সংস্থার প্রতিনিধিত্বকারী মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন ২০১৩ সালে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে সমকামি বিবাহ বৈধতার বিষয়ে প্রতিবাদ করে। স্কটল্যান্ডে সমকামী বিবাহ বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু উত্তর আয়ারল্যান্ডে এখনও এটি অবৈধ।

সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট, প্রিয় ডটকম ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *