তিন নেতার বক্তব্যে বিএনপিতে তোলপাড়, ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটকম, ঢাকা: বিএনপির সিনিয়র তিন নেতার বক্তব্যের বরাতে প্রকাশিত সংবাদে দলের ভেতরে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। এ নিয়ে অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ওই প্রতিক্রিয়া অনেকেই শেয়ার করছেন।বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সহিদুল ইসলাম বাবুল ১০ ঘন্টা আগে তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে ওই তিন নেতার বক্তব্যের বরাতে প্রকাশিত সংবাদের এমনই একটি প্রত্তিক্রিয়া দিয়েছেন। যা বিপুল সংখ্যকবার শেয়ার হয়েছে, এছাড়াও অনেক নেতাকর্মী এতে লাইক দিয়েছেন এবং মন্তব্য করেছেন। নিম্নে ওই স্ট্যাটাস তুলে ধরা হলো- সস্তা ইন্টারনেটের এই যুগে গাবগাছ২৪.কম-আমগাছ২৪.কমের ছড়াছড়ির কথা আগেই একবার বলেছিলাম। এগুলিকে আমি পাত্তাও দেই না। তবে বিষয়টা যখন উদ্দেশ্যমূলকভাবে ধারাবাহিক কোনো প্রোপাগান্ডা ছড়ানোতে ব্যস্ত তখন জোসেফ গোয়েবলসের ‘মিথ্যাকে সত্য বানানোর থিওরি’কে মেনে নিয়ে কিছু লাইন লিখতেই হচ্ছে।
গাবগাছ২৪.কম মার্কা সো কল্ড আওয়ামী অনলাইন এক্টিভিস্ট নিয়ন্ত্রিত ভুঁইফোঁড় কিছু অনলাইন পোর্টালে গত দুই-তিন দিনে কিছু নিউজ করেছে যেগুলির উদ্দেশ্যটা খুবই রহস্যময়। কারণ বেগম জিয়া চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার পরপরই আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতাদের কটুক্তি ও ভ্রান্ত বক্তব্যের সাথে এই পোর্টালগুলির নিউজের একটা যোগসুত্র পেয়েছি।
গত ১৯ জুলাই বাঙালিনিউজ নামের একটি অনলাইন পোর্টাল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সম্মানিত সদস্য লেঃ জেঃ (অবঃ) মাহবুবুর রহমানকে নিয়ে একটি নিউজ করেছে যার হেডলাইন দিয়েছে- ‘বিএনপি করার চেয়ে বাড়ির চাকর হওয়াও সম্মানের’! যেখানে বক্তব্যটি জনাব মাহবুবের নিজের বলে প্রচার করা হয়েছে!
আবার বাংলা ইনসাইডার নামের আরেক উড়ো একটা পোর্টাল একই তারিখে বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সম্মানিত সদস্য ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ জনাব তরিকুল ইসলামের নামে আরেকটি নিউজ করেছে যেখানে হেডলাইন দেয়া হয়েছে- ‘পিয়ন দারোয়ানরাইতো এখন বিএনপি চালায়’!

সেখানেও যথারীতি জনাব তরিকুল সাহেবের নিজের উদ্ধৃতি টানা হয়েছে। তিনি নিজেই নাকি এই কথা বলেছেন!

আর গতকাল আরেক বর্ষীয়ান সফল রাজনীতিবিদ ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সম্মানিত সদস্য জনাব এম কে আনোয়ারের নামে আরেকটি নিউজ করা হয়েছে।

যেখানে হেডলাইন করা হয়েছে- ‘বিএনপিতে চলছে রাজতন্ত্র; রানী আর যুবরাজ দল চালায়’!
যথারীতি এখানেও জনাব আনোয়ার সাহেবের নিজের উদ্ধৃতি আনা হয়েছে !

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আজ জনাব তরিকুল ইসলাম গনমাধ্যম বরাবর একটি প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছেন-

১৯ জুলাই বুধবার অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ইনসাইডার এ ‘পিয়ন দারোয়ানরাই তো এখন বিএনপি চালায়’ শিরোনামে প্রকাশিত রাজনৈতিক প্রতিবেদনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম। এক প্রতিবাদ লিপিতে তিনি বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনে আমাকে জড়িয়ে যে কল্পকাহিনী লেখা হয়েছে তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মিথ্যা,ভিত্তিহীন এবং আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। বিএনপি স্থায়ী কমিটিতে কি আলোচনা হয়েছে তা প্রতিবেদক জানলেন কিভাবে?

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে: আমি নাকি ওই বৈঠকে বলেছি ‘আমাদের খামোখা বৈঠকে ডাকার দরকার কী? পিয়ন দারোয়ানরাই তো এখন বিএনপি চালায়’ এই বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য। প্রতিবেদক সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলকভাবে তার উর্বর মস্তিষ্কপ্রসূত ভাবনা থেকে এ গল্প বানিয়েছেন। কোন রকম তথ্যসূত্র উল্লেখ ছাড়াই তিনি আমার নামে একথা চালিয়ে দিয়েছেন। এটা সাংবাদিকতার নীতি বিরুদ্ধ। মানহানিকর এবং দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে সিরিজ মিথ্যাচারের অংশ। প্রতিবেদনে আমাকে শ্রেণী সংগ্রামের রাজনীতির কর্মী,গলাকাটা পার্টির নেতা প্রভৃতি বিশেষণযোগে আক্রমণ করা হয়েছে। আমার দল বিএনপিকে নিয়েও অযাচিত মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে।

পুরো প্রতিবেদনটি পড়লে মনে হয় এটি বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতেই রচনা করা হয়েছে। তরিকুল ইসলাম তাঁর প্রতিবাদ লিপিতে আরো বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহৎ পেশা। কিন্তু এ পেশাকে সম্প্রতি কিছু মতলববাজ লোক ব্যক্তিগত স্বার্থোদ্ধার এবং সম্মানী মানুষকে হেয় প্রতিপন্ন করার কাজে লাগাতেই তৎপর বলে মনে হয়। তারাই সিন্ডিকেটেড পন্থায় এ ধরণের অপপ্রচারে লিপ্ত। এটি বিএনপির ভাবমূতি নষ্ট করা এবং দলের ভেতর বিভেদ ও অনৈক্য সৃষ্টির অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়। এ ধরণের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হবার জন্য আমি নেতাকর্মীদের প্রতি উদাত্ত আহবান জানাই।

জানা গিয়েছে দেশের বাইরে থাকা লেঃ জেঃ (অবঃ) মাহবুবুর রহমান ও শারীরিক ভাবে অসুস্থ জনাব এম কে আনোয়ারও প্রতিবাদলিপি পাঠাবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তবে আমি নিশ্চিত, আগামী কয়েকদিনেও বিএনপির অন্যান্য সিনিয়র নেতাদের নামেও এমন ভ্রান্ত নিউজ করা হবে।

এখন লক্ষ্য করুন, পরপর ধারাবাহিক এই প্রোপাগান্ডাগুলি কখন ছড়ানো হচ্ছে?

যেদিন বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের বাইরে গেলেন চিকিৎসার জন্য তারপরের দিন থেকেই। যখন বিএনপি সুইফট পাখির মত ঘুরে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করেছে, সারা দেশের পার্টি অফিসগুলিতে নেতা কর্মীরা অভূতপূর্ব উদ্দীপনায় উদ্দীপ্ত হচ্ছে- ঠিক তখনই।

অপরদিকে আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতারাও বিভিন্ন গালগল্প শুনিয়ে বিএনপি নেতা-কর্মীদের হতাশ করতে চাচ্ছেন। এই সবের একটাই উদ্দেশ্য থাকতে পারে- বিএনপিতে ভাঙ্গন ধরানোর ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত !

আর এইসব ভাঁওতাবাজ অনলাইন পত্রিকাগুলি কারা লিড করছে সেটা সবাইই জানে। সরকার কাদের পেছনে তথ্য প্রযুক্তিতে অবদানের নামে জনগনের টাকা বিতরন করছে সেটাও সবাইই জানে। এটা তাদেরই কাজ।

বরং, পত্রিকার এই নিউজগুলির উদ্দেশ্য ও বেগম জিয়ার বিদেশ যাওয়া নিয়ে সম্প্রতি আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি জনাব ওবায়দুল কাদের ও প্রচার সম্পাদক হাসান মাহমুদের বক্তব্যের উদ্দেশ্য একই স্কেলে মিলে যাচ্ছে। সো এই ঘৃণ্য কাজগুলি যে এই ওবায়দুল কাদের বা হাসান মাহমুদরা করাচ্ছেন না আমি শিওর হতে পারছি না।

বিএনপির বিরুদ্ধে সবসময়ই ষড়যন্ত্র হয়েছে, এখনো হচ্ছে।

কিন্তু বারবারই বিএনপি সেই বাঁধা ভেদ করে নতুন করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আসলে বিএনপি’র অস্তিত্ব হলো ফিনিক্স পাখির মতোই- ধ্বংসস্তুপের মধ্য থেকে বারবার পূর্ণজন্ম লাভ করাই এই দলের বৈশিষ্ট্য।
সূত্র: আরটিএনএন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *