কেরানীগঞ্জের সন্ত্রাসী আমির ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটকম, ঢাকা: রাজধানীর কেরানীগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্ধুকযুদ্ধে’ সন্ত্রাসী আমির ওরফে ল্যাংড়া আমির নিহত হয়েছেন। সোমবার দিনগত রাত ২টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মীরেরবাগ এলাকায় এই ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হয়।দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, আমিরের লাশ উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল ও দুটি গুলি উদ্ধারের কথা জানিয়েছেন থানা পুলিশের এই কর্মকর্তা।
প্রসঙ্গত, কেরানীগঞ্জের চাঞ্চল্যকর শিশু পরাগ অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকা এই আমির ওরফে ল্যাংড়া আমির ঘটনার ১২ দিনের মাথায় ২০১২ সালের ২৩ নভেম্বর টঙ্গীতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল পুলিশ। অথচ হাসপাতালে আনার পর বেঁচে ওঠে সে।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ২০১২ সালের ১১ নভেম্বর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা এলাকায় মা, বোন ও গাড়িচালককে গুলি করে শিশু পরাগ মণ্ডলকে অপহরণ করে আমির। এর আগেই তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলাও হয়। পরাগ অপহরণের পরই সন্ত্রাসী হিসেবে আলোচনায় আসে ল্যাংড়া আমির।
আমিরের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিম এলাকায়। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় বাড়ি তৈরি করে এখানেই থাকতো সে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পশ্চিমপাড়া এলাকায় একসময় জমির ব্যবসা ও দালালিতে যুক্ত ছিল এই সন্ত্রাসী।
স্থানীয়রা জানায়, আমির ঠিকমতো হাঁটতে পারতো না। যার কারণে ‘ল্যাংড়া আমির’ নামে পরিচিত হয়ে উঠে সে। চাঁদাবাজি, হত্যা, অপহরণের ঘটনায় আমির কেরানীগঞ্জের ত্রাস হিসেবে পরিচিত লাভ করে। তার হাতে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার হওয়ার পর গত বছরের ১১ আগস্ট ঢাকার আদালতের হাজতখানা থেকে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যায় আমির। এরপর কেরানীগঞ্জ এলাকায় আবারও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করে সে।
চলতি বছরের ২২ মার্চ চিকিৎসক দম্পতি আবু নোমান ও শাহানা নোমানের রিকশা থামিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আমির। এসময় একটি চিরকুট দেয় ওই দম্পতিকে। তাতে লেখা ছিল ২০ লাখ টাকা না দিলে তাদের বুকে গুলি করা হবে।এসময় চলে যাওয়ার সময় তাদের বহনকারী রিকশাচালকের পায়ে গুলি করে আমির।
এরপর গত ২২ মে দুপুরে জিয়ানগর এলাকায় ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামের রিকশা থামিয়ে চাঁদার দাবিতে একই কায়দায় তার পায়ে গুলি করেন আমির। সর্বশেষ গত মাসে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় ব্যাবসায়ী শাহ আলমের বুকে গুলি করে সে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *