শতাধিক নারীকে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করে ভণ্ডপীর

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটকম, ঢাকা: ভণ্ডপীর আহসান হাবিব পিয়ার শতাধিক নারীকে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করে তা আবার ভিডিও করে। আর তাকে এ কাজে সহযোগিতা করে তার কয়েকজন সহযোগী। গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে এ কথা স্বীকার করেছে ভণ্ডপীর আহসান হাবিব। শুক্রবার ভণ্ডপীরের দু’দিনের রিমান্ড শেষ হয়েছে। এদিকে ভণ্ডপীরের বাসার কম্পিউটার ও ব্যবহৃত মোবাইল থেকে ২০টির মতো অশ্লীল ভিডিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাকি ভিডিওগুলো তার সহযোগীদের কাছে রয়েছে। ওই সহযোগীদের গ্রেফতার ও বাকি ভিডিও উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্তসংশ্লিষ্ট কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিটের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, শুধু নারীদের ভিডিও নয়, ইমোতেও অসংখ্য নারীর সঙ্গে পিয়ারের ‘সেক্সুয়াল চ্যাটিং’ ও ভিডিও ক্লিপ জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া এই প্রতারক ইসলাম প্রচারের নামে নারীদের ব্লাকমেইল করে গত এক বছরে অন্তত ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিটের (সাইবার ক্রাইম) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নাজমুল ইসলাম বলেন, দু’দিনের জিজ্ঞাসাবাদে ভণ্ডপীর আহসান হাবিবের নারী কেলেঙ্কারি ও প্রতারণার অনেক তথ্য মিলেছে।’ তিনি বলেন, ‘ভণ্ডপীর যখন নারীদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করত, তখন তা ভিডিও করত তার বেশ কয়েকজন সহযোগী। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ নানা পেশার নারীদের কথার জাদুতে ফেলে এসব অপকর্ম চালাত সে। হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে দাওরা হাদিস পড়াশোনা শেষ করে গত তিন বছর ধরে সে এসব অপকর্ম করে আসছে।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, ইসলাম প্রচারের নামে সাহায্য হিসেবে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে। ভণ্ডপীর গ্রেফতার হওয়ার পর বেশ কয়েকজন প্রতারিত নারী তথ্য দিতে গোয়েন্দা কার্যালয়ে আসেন। আবার অনেকে ফোনেও ভণ্ডপীরের প্রতারণার বিচিত্র তথ্য দিয়েছেন।
ভণ্ডপীর পিয়ারকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন এমন একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে পিয়ার গত তিন বছরে জিন ভূত তাড়ানোর নাম করে ও প্রেমের ফাঁদে ফেলে শতাধিক নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছেন। এ কাজে তার বাসা ও উত্তরার কয়েকটি ফ্ল্যাট ব্যবহার করা হয়। উত্তরায় ঘণ্টা চুক্তিতে রুম ভাড়া নিয়ে সে নারীদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছে ও কৌশলে ভিডিও ধারণ করেছে। ভিডিওগুলো পরে তার কম্পিউটার ও মোবাইলে রাখে।
জিজ্ঞাসাবাদে পিয়ার ইসলামী ব্যাংকে খোলা তার অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে তথ্য দিয়েছে। তার অ্যাকাউন্টে গত কয়েক মাসে ২০ লাখ টাকার লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছেন গোয়েন্দারা। তার অ্যাকাউন্টের টাকা দেশের বিভিন্ন এলাকা ও মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলো থেকে আসা। ইসলাম প্রচারের অংশী হতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা সরল বিশ্বাসে ভণ্ডপীরের অ্যাকাউন্টে টাকাগুলো পাঠিয়েছেন।
এ ছাড়াও বিকাশের মাধ্যমে প্রবাসী ও দেশের লোকদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে সে। মূলত ইউটিউবে বিভিন্ন ভিডিও ছেড়ে লোকজনের সহানুভূতি অর্জন করত এই প্রতারক। গত কয়েক মাসে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সব মিলিয়ে ৩০ লাখের বেশি টাকা লেনদেন হয়েছে। তার আরও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে কিনা, তা জানার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা।
ভণ্ডপীরের প্রতারণার শিকার এক তরুণী জানান, ফেসবুকে তার সঙ্গে ‘পীরের’ পরিচয় হয়। চ্যাটিংয়ের একপর্যায়ে সে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। এরপর ইসলাম ও নিজের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে তার কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা নেয়। তিনি বলেন, ‘বুধবার তার গ্রেফতারের খবর শুনি। এই ভণ্ডপীরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। যাতে আর কোনো নারীকে সে এভাবে ক্ষতি করতে না পারে।’ বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভণ্ডপীর আহসান হাবিব পিয়ারকে গ্রেফতার করে কাউন্টার টেরোরিজমের সাইবার ক্রাইম ইউনিট। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পাঠালে বিচারক তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
সূত্র: যুগান্তর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *