সড়ক খারাপ, তাই ট্রেনের টিকিটই ভরসা

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটকম, ঢাকা: দ্বিতীয় দিনের টিকিটের জন্য কমলাপুর রেলস্টেশন কাউন্টারে ঈদে ঘরেফেরা মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। প্রথম দিনের তুলনায় শনিবার দ্বিতীয় দিনে টিকিট প্রত্যাশীদের দীর্ঘ সারি প্লাটফর্ম থেকে বাইরে পর্যন্ত পৌঁছেছে। স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, আজ ২৮ আগস্টের টিকিট দেয়া হচ্ছে। মোট ২৩টি কাউন্টার থেকে এই টিকিট দেয়া শুরু হয় সকাল ৮টায়। এর আগেই শুক্রবার মধ্যরাত থেকে টিকিট প্রত্যাশীরা কাউন্টারে এসে অবস্থান নিতে শুরু করে। ভোরের আলো ফোটার আগেই কাউন্টারে লম্বা লাইন দেখা যায় টিকিট প্রত্যাশীদের।রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। প্রথম দিন শুক্রবার দেয়া হয় ২৭ আগস্টের টিকিট। অগ্রিম টিকিট নেয়ার পর যাত্রার সময় পরিবর্তন করা যাবে না। একসঙ্গে একজনকে সর্বোচ্চ চারটি টিকিট দেয়া হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আজকের ২৩টি কাউন্টারের মধ্যে দু’টি কাউন্টারে নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য টিকিট দেয়া হয়। টিকিট প্রত্যাশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি এবং বন্যার কারণে সড়ক খানাখন্দে ভরে গেছে। তাই বাসে ভ্রমণের চেয়ে ট্রেনকেই নিরাপদ ভাবছেন তারা। এছাড়া যানজটে দুর্ভোগের আশঙ্কায় ট্রেনে ঠাসাঠাসি করে যেতেও আপত্তি নেই বলে জানান ঈদে ঘরমুখো মানুষরা। রংপুরের আল হেলাল বলেন, রাত ২টার পরে কাউন্টারে এসে অবস্থান নেন তিনি। পরিবারের দুই সদস্যসহ প্রতিবেশি একজনের জন্য ৪টি টিকিট কাটবেন হেলাল। জানালেন, সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। খানাখন্দে ভরা। এছাড়া বন্যায় সড়কে অনেক স্থানে ভাঙন হয়েছে বলে শুনেছেন। তাই রংপুর এক্সপ্রেসের টিকিট নিতে লাইনে অপেক্ষা করছেন।
দিনাজপুরের রাসেল নানক বলেন, তার জেলায় সড়ক ও রেলপথ দু’টিই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই ঈদে ট্রেনে রংপুর হয়ে বাড়ি যাবেন তিনি। রংপুর পর্যন্ত গিয়ে সেখান থেকে বাড়ি যেতে প্রয়োজনে ট্রেনের অতিরিক্ত যাত্রী হতেও তার আপত্তি নেই। কারণ সড়কে যানজটের দুর্ভোগ তাকে পোহাতে হবে না।
ঢাকা রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াসিন ফারুক বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে। সুশৃঙ্খলভাবে টিকিট দেয়া হচ্ছে। রেলস্টেশনে টিকিট কালোবাজারিও হচ্ছে না। তিনি বলেন, টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে সাদা পোশাকে পুলিশ টহল দিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *