ঘনীভূত হচ্ছে রোহিঙ্গা সংকট

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটকম, ঢাকা: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টির ফলে রোহিঙ্গা সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বাধীন কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। রিপোর্টে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদান, তাদের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বাংলাদেশ থেকে যেসব রোহিঙ্গা নিজ বাড়িঘরে ফিরে যেতে চান, তাদের ফেরত নেয়ার জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতি সুপারিশ করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে ঢাকা-ইয়াঙ্গুন সম্পর্কে আস্থার অভাব বাড়ছে। মিয়ানমার সরকার তাদের দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সন্ত্রাসী হামলাকারীদের ‘বাঙালি সন্ত্রাসী’ বলে অভিহিত করায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করেছে। ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার মিয়ানমারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত অং মিন্টকে তলব করে এর কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। পাশাপাশি রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ নিরুৎসাহিত করার জন্যও মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব দেয়াসহ আনান কমিশনের রিপোর্টের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নকে এ সংকট নিরসনের উপায় বলে মন্তব্য করছেন।

রাখাইন রাজ্যের সমস্যা নিরসনের জন্য গত বছর মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচির অনুরোধে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে ‘অ্যাডভাইজরি কমিশন অন রাখাইন স্টেট’ গঠন করা হয়। এতে কফি আনান ফাউন্ডেশন ও মিয়ানমার সরকারের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। প্রতিনিধি দল প্রায় এক বছর ধরে রাখাইন রাজ্য ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন এলাকা সফর করে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে। বুধবার এ প্রতিবেদন মিয়ানমার সরকারের কাছে হস্তান্তর করেন কফি আনান। বৃহস্পতিবার এ প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।

কফি আনান কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ জন নিহত হওয়ার পর অভিযান চালায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এ ঘটনায় প্রথমদিনেই ৮৯ জন নিহত হন। রোহিঙ্গারা রাখাইন রাজ্য থেকে দলে দলে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের লক্ষ্যে সীমান্তে জড়ো হন। বাংলাদেশে সীমান্তরক্ষীদের সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। বিজিবি অনেক রোহিঙ্গাকে অনুপ্রবেশকালে ফিরিয়ে দিয়েছে।

গত বছরের অক্টোবরে একইভাবে মিয়ানমারে সীমান্ত ফাঁড়িতে সন্ত্রাসী হামলায় ৯ নিরাপত্তারক্ষী নিহত হলে রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযান চালানো হয়। ওই ঘটনার পর থেকে এ পর্যন্ত ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছেন। তার আগে প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা অনিবন্ধিতভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। এছাড়াও দুই শরণার্থী শিবিরে প্রায় ৩৩ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী মর্যাদা নিয়ে বাংলাদেশে আছেন। বাংলাদেশে সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা রয়েছেন। ২০০৫ সালের পর বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে মিয়ানমার।

বিবিসি জানায়, শুক্রবার সশস্ত্র হামলার পর মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ আবার অশান্ত হয়ে উঠেছে, তার জন্য মিয়ানমার সরকার দোষারোপ করছে ‘আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি’ নামের একটি সংগঠনকে। গত বছরের অক্টোবরে পুলিশ ফাঁড়ির ওপর হামলার ঘটনার জন্য দায়ী করা হচ্ছিল এ সশস্ত্র গোষ্ঠীকে। মিয়ানমার সরকার এরই মধ্যে রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মিকে সন্ত্রাসীগোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেছে। এদিকে শনিবারও রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।

মিয়ানমারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত অং মিন্টকে শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ফের অনুপ্রবেশের আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগর) মাহবুব উজ জামান মিয়ানমারের দূতকে তলব করেন।

এ বিষয়ে পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ২৫ অক্টোবর রাখাইন রাজ্যে সীমান্ত ফাঁড়িতে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের ওপর হামলার পর সংঘর্ষের ঘটনার প্রতি বাংলাদেশের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ নিন্দা জানিয়েছে। রাথিডং-বুধিডং এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় নিরীহ মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এতে আরও বলা হয়, রাখাইন রাজ্যে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিরসনের বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য ঢাকায় মিয়ানমারের দূতাবাসের ‘চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স’কে (সিডিএ) ডেকেছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব উজ জামান। তিনি গত বছরের ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের সীমান্ত ফাঁড়িতে একই ধরনের সন্ত্রাসী হামলার কথা স্মরণ করে বলেন, ওই সময়ে রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযান চলাকালে ৮৫ হাজার বেসামরিক মানুষ বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেন। হাজার হাজার নারী, শিশু, বয়স্ক মানুষ সীমান্তের ওপারে জড়ো হয়েছেন। মাহবুব উজ জামান আশঙ্কা প্রকাশ করেন, গতবারের মতো একই ধরনের উদ্বেগজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বেসামরিক মানুষকে সুরক্ষা দেয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বাংলাদেশ মিয়ানমারের প্রতি নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষকে বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষকে সুরক্ষা দেয়ার আহ্বান জানায়। যে কোনো ধরনের সহিংস উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশ মিয়ানমারকে সহায়তা দেয়া অব্যাহত রাখবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, রাখাইন রাজ্যে সমস্যা সমাধানে কফি আনান কমিশন নামে পরিচিত রাখাইন অ্যাডভাইজরি কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর এ হামলা হয়েছে। মাহবুব উজ জামান এ সংকটের মূল সমাধানের জন্য একটি ব্যাপক ও বিস্তৃত পদ্ধতি গ্রহণের আহ্বান জানান।

জানতে চাইলে মিয়ানমারে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা শনিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট কিছুতেই শেষ হচ্ছে না। কফি আনান কমিশন রিপোর্ট দেয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটিয়ে দেয়া হল। কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট খুব ভালো রিপোর্ট। এ রিপোর্ট বাস্তবায়ন হলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। রিপোর্ট যাতে বাস্তবায়ন না হয়, সেজন্য এ কাজ করা হতে পারে।’

তিনি মিয়ানমারে রাষ্ট্রদূত থাকাকালীনের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রদূত থাকাকালে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সবাই বলেছে, আমি তাদের সবাইকে নাগরিকত্ব দেব। তবে রোহিঙ্গা হিসেবে দিতে পারব না। তাদের অন্য নামে নাগরিকত্ব দেব।’

তিনি আরও বলেন, ‘কফি আনান কমিশনের প্রতিনিধিরা ঢাকায় এলে তাদের আমি বলেছিলাম, নাগরিকত্ব ইস্যুটা সবচেয়ে বড় ইস্যু। নাগরিকত্ব না দিলে তাদের কোনো অধিকার নেই। তারা চিকিৎসা পায় না। শিক্ষা নিতে পারে না। তাদের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা আছে। কফি আনান কমিশন তাদের নাগরিকত্ব দেয়ার সুপারিশ করেছে।’

অনুপ চাকমা মনে করেন, রোহিঙ্গারা বড় ধরনের রাজনীতির শিকার হচ্ছেন। কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশের দুই ঘণ্টার মধ্যে হামলা চালানো হয়েছে। সেনারা অভিযান চালিয়েছে। আর এ ধরনের ঘটনা ঘটলে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসার সুযোগ খুঁজে। আমি রাষ্ট্রদূত থাকাকালে ২০১২ সালের জুনে মংডুতে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। তখন আমি বাংলাদেশ সরকারকে বলেছিলাম, সীমান্ত খুলে দেয়া ঠিক হবে না। কারণ এটা মিয়ানমারের রোগ। এ রোগ আমাদের দেশে নিয়ে আসা ঠিক হবে না। তখন আমরা সীমান্ত খুলে দেইনি। ১ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা সিতওয়েতে আশ্রয় নেয়। তাদের অভ্যন্তরীণভাবে ডিসপ্লেস পারসন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের এক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আমার সঙ্গে দেখা করেন। আমি তাকে বলি, আমরা বিভিন্ন সময়ে অনেক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছি। পরে তাদের ফিরিয়ে নেয়নি মিয়ানমার। নতুন করে আশ্রয় দিলে তাদের ফিরিয়ে নেবে- এমন গ্যারান্টি কে দেবে। সেটা কেউ দেবে না। তখন তিনি সেটা বুঝলেন। অক্টোবরের ঘটনায় মিয়ানমারের ৯ সৈন্য নিহত হওয়ার পর সেনাবাহিনী সেখানে অভিযান চালায়। তখন ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে। এবার তার চেয়েও বড় ঘটনা ঘটেছে। সীমান্ত খুলে দিলে আরও বেশি রোহিঙ্গা ঢুকে পড়বে। তারপর তাদের বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দিয়ে একটা গোষ্ঠী নৌকায় মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ অনেক দেশে পাঠানোর চেষ্টা করবে। কেননা রোহিঙ্গাদের মধ্যে যাদের বয়স বেশি, তারা মাটি কামড়ে রাখাইনে থেকে যেতে চায়। কিন্তু যাদের বয়স কম, তারা সেখানে থাকতে চায় না। কারণ তাদের সেখানে কোনো ভবিষ্যৎ নেই।’

অনুপ কুমার চাকমা বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের চারটি চক্র ব্যবহার করে-সীমান্তে চোরাচালানি, অস্ত্র ব্যবসায়ী, ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী ও মানব পাচারকারী চক্র। এরা রোহিঙ্গা সংকট শেষ হতে দেয় না। এ সংকট শেষ হয়ে গেলে রোহিঙ্গারা শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নতি করলে তাদের ব্যবহার করা যাবে না। ফলে কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট দেয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যে এ ঘটনার মাধ্যমে রিপোর্ট বাস্তবায়ন অনিশ্চিত করা হল। এখন বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়ে গেছে। আঞ্চলিক দেশ হিসেবে ভারত, থাইল্যান্ড, চীন কেউ কিছু বলে না। সংকট নিরসনে মিয়ানমারের ওপর চাপ দিতে বললে চীন ভেটো দেয়। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে রাজনীতি অনেক গভীরে প্রবেশ করেছে।’ তিনি মনে করেন, কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকট নিরসন সম্ভব।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র হিদার নোয়ার্ট এক বিবৃতিতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় শিকারদের প্রতি এবং তাদের পরিবারের প্রতি শোক জানাচ্ছি। সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী আবার সহিংসতা যাতে না ঘটে, তার ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি যারা দায়ী, তাদের বিচারের ব্যবস্থা করবে। আমরা প্রত্যাশা করি, এটা এমনভাবে করা হবে যাতে আইনের শাসন, মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি সুরক্ষা ও সম্মান বজায় রাখা, স্বচ্ছতা প্রদর্শন এবং উত্তেজনাকে যেন আর উসকে দেয়া না হয়। আমরা মিয়ানমার ও রাখাইন রাজ্যের প্রতি তাদের ব্যবস্থা এবং কথায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় কাজ করার আহ্বান জানাই।

যুক্তরাষ্ট্রের মুখপাত্র আরও বলেন, রাখাইন রাজ্যে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা মনে করিয়ে দিয়েছে। আমরা এ রিপোর্টকে স্বাগত জানাই। পাশাপাশি, মিয়ানমারের সরকার এ রিপোর্টের সুপারিশ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাস্তবায়ন করবে বলে আশা করি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কমিশনের রিপোর্টে উল্লিখিত দারিদ্র্য, অনুন্নয়ন, রাখাইনের সব নাগরিককে নাগরিকত্ব প্রদান এবং তাদের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দূর করাসহ সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মিয়ানমার সরকারকে সহায়তা দিতে চায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *