থামছে না রোহিঙ্গা স্রোত

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটকম, ঢাকা: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী ও পুলিশের নিষ্ঠুর নির্যাতনের মুখে গত ১৩ দিনে অন্তত ২ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ২৪ আগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ ৮০ হাজার এবং গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৩৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। রোহিঙ্গা যুবকদের ধরে নিয়ে হত্যা, নারীদের ধর্ষণের পর খুন, আগুনে ছুড়ে ফেলে শিশু হত্যা, শতাধিক গ্রাম পুড়িয়ে দেয়ায় ওইসব এলাকার মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। তারা প্রাণভয়ে পালিয়ে আসছে বাংলাদেশে। ওইসব ঠিকানাহীন বিপন্ন মানুষের স্রোত বইছে বাংলাদেশের দিকে। এই স্রোতের সঙ্গে প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। কোনোভাবেই থামছে না, ক্রমেই বাড়ছে এই স্রোতের তীব্রতা। বিভিন্ন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
রোহিঙ্গা সমস্যা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মোকাবেলার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার রাতে গণভবনে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ, মানবিক বিপর্যয়, মিয়ানমারের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এরই মধ্যে নির্যাতন সইতে না পেরে যারা বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে তাদের প্রতি অত্যন্ত মানবিক আচরণ করতে হবে। সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মঙ্গলবার বলেছেন, সরকার রোহিঙ্গা বিষয়টি মানবিকভাবে দেখছে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, রোহিঙ্গাদের ঘটনা দুঃখজনক। অমানবিক।
গত বছরের ৯ অক্টোবর সেনা চৌকিতে হামলার ঘটনায় রোহিঙ্গা নিধন শুরু হলে ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিল। নির্যাতনের তীব্রতায় এবার সংখ্যাটি গতবারের চেয়ে অনেক বেশি। পরিকল্পিতভাবে ভিটেমাটি থেকে তাড়ানোর জন্য তাদের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন চালানো হচ্ছে। বাধ্য হয়ে তারা জীবন রক্ষার জন্য সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে। এখানে আসার পরও তাদের বিড়ম্বনার অন্ত নেই। থাকার জায়গা নেই। দু’বেলা দু’মুঠো খাবারও তাদের ভাগ্যে জুটছে না। আবার জীবন বাজি রেখে ছুটে আসা অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকতে পারছে না। তবে যারা কোনোমতে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে তারা আর নিজ দেশে ফিরতে চাচ্ছে না। কারণ সেখানে গেলেই নিশ্চিত মৃত্যু। এ বাস্তবতায় মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়া রোহিঙ্গাদের থাকার জন্য জমি বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালিতে বন বিভাগের ৫০ একর জমিতে তাদের থাকার ব্যবস্থা করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক খালেদ মাহমুদ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, গত অক্টোবরে রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার পর রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ শুরু হলে বালুখালিতে ৫০ একর জমি বরাদ্দ চাওয়া হয় ছয় মাস আগে। গত বছর আসা কয়েক হাজার রোহিঙ্গা এরই মধ্যে সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। নতুন করে যারা আসবে তাদেরও সেখানে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হবে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন মঙ্গলবার বলেন, ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা ঢুকেছে বলে তিনি জেনেছেন। তবে এই সংখ্যা দুই লাখের কাছাকাছি হবে কিনা তা গণনা না করে বলা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই দেশের সেনাবাহিনী ও পুলিশের বর্বর নির্যাতনের কারণে পালিয়ে আসা নারী, পুরুষ, শিশুতে ভর্তি আশ্রয় কেন্দ্রগুলো। প্রায় কোনো আশ্রয় শিবিরে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ফলে এরা পাহাড় এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। বনজঙ্গল কেটে বাঁশ পলিথিন দিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই তৈরি করছে। তবে এখনও সবার খাবার ব্যবস্থা হয়নি। ফলে এদের অনেকের মুখে একবেলা খাবারও জুটছে না । বিশুদ্ধ পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কূটনৈতিকভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, রাখাইনে সে দেশের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের শতাধিক গ্রাম পুড়িয়ে দিয়েছে। দেখামাত্র নারী-পুরুষ নির্বিশেষে গুলি করে হত্যা করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, সোনা পোশাকে সজ্জিত তিন যুবক একজন নারীকে প্রথমে বিবস্ত্র করে। পরে তাকে লম্বা করে শুইয়ে দিয়ে হাতে পায়ে ভারি লোহার রড দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে যাচ্ছে। নারীদেহটি নিস্তেজ দেহে পড়ে আছেন । এরপর একজন ধারালো ছুরি দিয়ে গরু জবাইয়ের মতো ওই নারীর গলা কেটে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। রাখাইনে এমন নিষ্ঠুরভাবে প্রতিনিয়ত হত্যা করা হচ্ছে রোহিঙ্গাদের। এ অবস্থায় প্রাণে বাঁচতে তারা এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছে। উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবু সিদ্দিক জানান, গত ১০-১১ দিনে এই ক্যাম্পে অন্তত ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। অন্যদিকে উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পে গত এক সপ্তাহে আশ্রয় নিয়েছে আরও ৫০ হাজার । ক্যাম্পের বাইরে আছে আরও কয়েক হাজার রোহিঙ্গা।
আমাদের কক্সবাজার প্রতিনিধি সায়ীদ আলমগীর জানান, গুলির মুখ থেকে পালিয়ে কোনোমতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্তের জিরো পয়েন্টে এসে অনাহারে-অর্ধাহারে বিপর্যস্ত সময় কাটছে তাদের। আহত, গুলিবিদ্ধ, ক্ষুধার্ত, অসুস্থ, অর্ধবসনে, পলিথিনের ছাউনিতে রোদ-বৃষ্টিতে চরম বিপর্যয়ের মধ্যে দিন পার করছে তারা। এরপরও দলে দলে আসছে রোহিঙ্গা নারী-শিশু ও পুরুষ। মঙ্গলবার পর্যন্ত নতুন আসা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা পায় দু’লাখ ছুঁয়েছে বলে ধারণা করছে ক্যাম্প এলাকার দায়িত্বশীলরা। সোমবার সন্ধ্যার পর ও মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশের উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তের ওপারে বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক গ্রাম আগুনে জ্বলতে দেখা গেছে। মিয়ানমারের ওয়াবেং গ্রামের স্বামী হারানো রোহিঙ্গা নারী মমতাজ বেগম (২৮) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মিয়ানমারের মগ সেনারা স্বামী আবুল ফয়েজকে ধরে নিয়ে গুলি করে মেরেছে।
গুলিবিদ্ধ হয়ে পালিয়ে আসা কয়েকজনের বর্ণনা : মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে হোয়াইকং উলুবনিয়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে সপরিবারে অনুপ্রবেশ করেন মিয়ানমারের বুচিডং দমবাজার এলাকার বাসিন্দা মুহাম্মদ সোয়েব (৩৫)। তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকালে তাদের এলাকায় সেনারা আক্রমণ করেন। তাদের দেখে সবাইকে নিয়ে দৌড় শুরু করি। একটু পরে তারা আমাদের বাড়িতে এসে আগুন দেয়। এরপর আমাদের ওপর গুলি ছুড়ে। এতে আমার মেয়ে উম্মে সালমা স্ত্রী সিরাজুন নেছা গুলিবিদ্ধ হয়। তাদের সঙ্গে এসেছেন একই এলাকার ছৈয়দ নূরের ছেলে আবু ছিদ্দিক (৪০), জহিরুল ইসলামের ছেলে মুহাম্মদ সাদেক (৩২)। তারাও পালাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন। তারা বলেন, আর্মি ও মগরা বিভিন্ন পাড়ার বাড়িঘরে আগুন দিচ্ছে। মংডুর বলিবাজার এলাকার সাহেববাজারের নূরুল আবছার (৪৫) বলেন, আমাদের পাড়ায় অন্তত ৬০০ পরিবার ছিল। গত ২৪ আগস্ট রাত ২টার দিকে চারদিকে ঘেরাও করে গুলি চালায় পুলিশ, আর্মি সদস্য ও মগরা। আমরা হামাগুড়ি দিয়ে পাশের পাহাড়ে গিয়ে আশ্রয় নিই। অনেকে গুলি খেয়ে মারা গেছেন। এরপর তারা আগুনে সব ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়। সেখানে মানুষ ও লাশের সঙ্গে ঘরের পশু-পাখিও পুড়ে মারা গেছে।
৩২১৫ রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফেরত ২৫ নৌকা জব্দ : এদিকে কক্সবাজারের টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশকালে আটকের পর ৩ হাজার ২১৫ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুকে স্বদেশে ফেরত পাঠিয়েছে বিজিবি ও কোস্টগার্ড। এ সময় রোহিঙ্গাদের বহন করা ২৫টি নৌকা জব্দ করা হয়। টেকনাফ ২-বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল এসএম আরিফুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় উপজেলার হোয়াইক্যং, হ্নীলা, সদর ও সাবরাং ইউনিয়নের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশকালে ২ হাজার ৬৭৮ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। পরে মানবিক সহায়তা দিয়ে তাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
অন্যদিকে নাফ নদী হয়ে অনুপ্রবেশকালে ৫৩৭ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ আটকের পর মানবিক সহায়তা দিয়ে স্বদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানান টেকনাফ কোস্টগার্ডের স্টেশন কমান্ডার লে. জাফর ইমাম সজীব।
আমাদের উখিয়া প্রতিনিধি আবদুর রহিম জানান, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া উখিয়ার কুতুপালং গ্রামে ৪৯৫ হিন্দু একটি মুরগি ফার্মে মানবেতর দিনযাপন করছে। স্থানীয় হিন্দু নেতারা খাবারের ব্যবস্থা করলেও তাদের ঘুমানোর জায়গা মেলেনি। একটানা দীর্ঘ ৫ দিন ঘুমাতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অনেকেই। আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা মিন্টু রুদ্র জানান, মুরগির খামারটিতে কোনো রকমে বসার জায়গা হয়েছে। চার রাত কেউ ঘুমাতে পারেননি। এতে শিশুসহ অর্ধশত লোক অসুস্থ হয়ে পড়েছে। মুসলিমদের পাশাপাশি মিয়ানমারের রাখাইনে চলমান সহিংসতায় নির্যাতন থেকে বাদ যায়নি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনও। চলমান সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছে ৮৬ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ।
আমাদের টেকনাফ প্রতিনিধি নুরুল করিম রাসেল জানান, সর্বস্ব হারিয়ে শুধু প্রাণ নিয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা টেকনাফে খাদ্য ও আশ্রয় সংকটের পড়েছে। গত কয়েক দিনে টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ঢুকে পড়া এসব রোহিঙ্গা অনাহারে-অর্ধাহারে ছুটছে অনিশ্চিত গন্তব্যে। শুধু সোমবার রাতেই টেকনাফের নাফ নদী ও সমুদ্র উপকূলীয় পয়েন্ট দিয়ে অন্তত ৫০ হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে। তাদের আপাত লক্ষ্য নয়াপাড়া ও লেদা এলাকার নিবন্ধিত এবং অনিবন্ধিত শরণার্থী ক্যাম্পসহ আশপাশের এলাকা। তবে ঠাঁই মিলছে না সেখানেও। মঙ্গলবার টেকনাফের মোচনী, নয়াপাড়া, লেদা, হোয়াইক্যংয়ের রইক্ষ্যং, উলুবনিয়া, কান্জর পাড়া, মিনাবাজার, লম্বাবিল ও সাবরাংয়ের শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ঢুকে পড়া বেশির ভাগ নারী শিশুসহ রোহিঙ্গারা একটু মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের জন্য বিক্ষিপ্তভাবে ছুটে চলছে। এদের অনেকে আবার যানবাহনের দিয়ে নয়াপাড়া ও লেদা এলাকার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছে। আবার কেউ উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে ঢুকছে। এসব ক্যাম্প ও আশপাশে যারা আশ্রয় পাচ্ছে না তারা টেকনাফ উখিয়ার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় বস্তা, পলিথিন ও বাঁশ নিয়ে ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে নতুন নতুন বসতি গড়ে তুলছে। টেকনাফ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান জানিয়েছেন, সোমবার রাত ও মঙ্গলবার সকালে সমুদ্র উপকূল পয়েন্ট দিয়ে টেকনাফে ঢুকে পড়া রোহিঙ্গার সংখ্যা অন্তত ৪০ হাজার হতে পারে বলে তিনি অনুমান করছেন।
আমাদের বান্দরবান প্রতিনিধি এনামুল হক কাশেমী জানান, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার প্রায় ৫০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা দিয়ে গত ২৪ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৩ দিনে প্রায় ৫০ হাজার রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ঘটেছে। মঙ্গলবার সকালে চাকঢালা সীমান্তের এপারে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা সৈয়দ আলম ও সখিনা খাতুন স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, ওপারের সরকারি বাহিনীর সদস্যরা নারীদের ওপর নির্যাতন চালায় এবং পুরুষদের ধরে নিয়ে প্রকাশ্যেই পুড়িয়ে হত্যা করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *