মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞার হুমকি ইউরোপের

টাইমস আই বেঙ্গলী ডকটম, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট রাখাইনে মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বরতা বন্ধে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান না হলে দেশটির ওপর অবরোধ আরোপের হুমকি দিয়েছে। খবর এএফপি’র। মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর নির্যাতনের ঘটনায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উদ্বেগ প্রকাশ এবং মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আহ্বানের পর ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের পক্ষ থেকে এই হুমকি এল। বৃস্পতিবার ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে গৃহীত এক প্রস্তাবে ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্টসহ সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে মিয়ানমারের ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়ানোর কথা বলা হয়। সেই সঙ্গে আসিয়ান জোট এবং চীনসহ প্রতিবেশী দেশগুলোকেও রোহিঙ্গা সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে উদ্যোগী হতে আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট। লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে ইউরোপের দেশগুলো। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট অবিলম্বে রাখাইনে সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞ ও বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া বন্ধের দাবি জানিয়েছে। এতে রাখাইনের সহিংসতা থামাতে কোনো ধরনের পদক্ষেপ না নেওয়ায় দেশটির ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চির প্রতি নিন্দা জানানো হয়। গত ২৫ আগস্ট অন্তত ৩০টি পুলিশ চৌকি ও একটি সেনা ক্যাম্পে রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি বা আরসা’র যোদ্ধারা প্রবেশের চেষ্টা করে। এরপর থেকে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী রাখাইনে ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ অভিযানের নামে নির্বিচারে রোহিঙ্গাদের হত্যা, ধর্ষণ ও ঘর জ্বালিয়ে দিচ্ছে।
ইতোমধ্যে তিন হাজারের অধিক রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে। আর নির্যাতুনের মুখে প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
জাতিসংঘ এটিকে ‘জাতিগত গণহত্যা’ উল্লেখ করে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। তবে মিয়ানমার এসব অভিযোগ শুরু থেকেই নাকচ করে আসছে। উল্টো দাবি করছে, রোহিঙ্গারাই এসবের জন্য দায়ী। ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে গৃহীত প্রস্তাবে রাখাইনে সেনা অভিযানে রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ড, নিপীড়ন এখনই বন্ধ এবং তাদের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি দিতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। রাখাইনে মানবাধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক আইন-কানুন লঙ্ঘনের ঘটনায় জাতিসংঘের তদন্তে সহযোগিতা করতে মিয়ানমার সরকারকে আহ্বান জানায় ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট। বাংলাদেশ সীমান্তে পুঁতে রাখা সব স্থলমাইন ও বিস্ফোরক সরিয়ে ফেলতেও মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয় প্রস্তাবে। ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের প্রস্তাবে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে জাতিসংঘের মাধ্যমে উদ্যোগ নিতে ইউরোপীয় কমিশনকে সক্রিয় হতে বলা হয়। তাদের বলা হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এক্ষেত্রে শাস্তিমূলক অবরোধ আরোপে তৈরি রয়েছে।
মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চিকে সতর্ক করে বলা হয়, মানবাধিকার রক্ষার সংগ্রামের জন্য ১৯৯০ সালে তাকে যে শাখারভ পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যর্থতার জন্য তা কেড়েও নেওয়া হতে পারে।
ইউরোপয়ান পার্লামেন্টের সদস্য আমজাদ বাশির বলেন, ‘কিছু ব্যক্তির সন্ত্রাসী কার্যকলাপ দমনের নামে মিয়ানমার সরকার সমগ্র রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর দুর্বিষহ পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর ফলে যে মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে, তার দায়ভার দেশটিকেই নিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা মিয়ানমারকে সতর্ক করে নোটিশ দিয়েছি। এরপরও তারা যদি রাখাইনে অভিযান এবং সংঘাত বন্ধ না করে, তাহলে আমরা পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *