এক’শ কোটি টাকার ইয়াবা ছাড়িয়ে নিতে ব্যর্থ দৌড়ঝাঁপ

টাইমস আই বেঙ্গলী ডটকম, ঢাকা : নারায়ণগঞ্জে এক’শ কোটি টাকা মুল্যের ৯২ হাজার পিস ইয়াবার চালান ও জড়িতদের ছাড়িয়ে নিতে দৌড়ঝাঁপ করে ব্যর্থ হয়েছে এক যুবলীগ নেতাসহ কয়েকজন ব্যক্তি। গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অনঢ় অবস্থানের কারণে চালান ছাড়াতে পারেনি তারা। ঘটনার পর ৫ আসামীদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে জড়িতদের মুখোশ উন্মোচন করেছে। পরবর্তীতে আরো দুই মাদক ব্যবসায়ীকে পুলিশ গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। জানা যায়, চলতি বছরের ২৬ জুলাই নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় তারা একটি নম্বরবিহীন মাইক্রোবাসে তল্লাশী চালিয়ে প্রায় একশ’ কোটি টাকা মুল্যের ৯২ হাজার পিস ইয়াবা, একটি পিস্তল ও নগদ এক লাখ টাকা উদ্ধার করে। এসময় ইয়াবা ব্যবসায়ীর সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেফতার করে। এরপর পরই শুরু হয় ইয়াবার চালানসহ গ্রেফতার হওয়াদের ছাড়িয়ে নিতে ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ। পুলিশ তদ্্বীরের কাছে মাথা নত না করে চালাতে থাকে এ ঘটনার তদন্ত। আর এই তদন্তে বেড়িয়ে আসতে শুরু করে একে একে নতুন নতুন তথ্য। এরই মধ্যে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই চালানের অর্থদাতা ও মূলহোতাসহ আরো দুইজনকে আটক করে। তারা হলো রাজধানীর পুরানা পল্টন পানির ট্যাংকি এলাকার গাড়ি বিক্রয় প্রতিষ্ঠান খন্দকার ট্রেডিং করপোরেশনের দুই কর্মচারী।
গোয়েন্দা পুলিশ সুত্রে জানা যায়, চালান ছাড়িয়ে নেয়ার তদ্্বীরে যুবলীগের এক কেন্দ্রীয় নেতা ছাড়াও একটি আপকামিং টিভি চ্যানেলের একজন রিপোর্টার, ওই চ্যানেলের এমডি পরিচয়দানকারি এবং ওই চ্যানেলের পরিচালক পরিচয়দানকারি নড়াইলের এক বিএনপি নেতা বিভিন্ন মহলে তদ্বীর চালিয়েছেন। এছাড়াও এটিএন বাংলার নড়াইল জেলা প্রতিনিধিও তদ্বীর করেছেন। তদ্্বীরকারীরা নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ধর্না দিয়েও চালান ছাড়িয়ে নিতে ব্যর্থ হন। তবে ওই টিভি চ্যানেলের চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মকর্তা জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হলেও এর সাথে জড়িতদের ব্যাপারে পুলিশ কোন তথ্য প্রকাশ করেনি । এ মামলার তদন্ত চলাকালীন জড়িত থাকার অভিযোগে এই পযন্ত ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।
এ প্রসঙ্গে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এস আই মফিজুল জানান, সংঘবদ্ধ ইয়াবা ব্যবসায়ী চক্র সাইনবোর্ড এলাকার রুট দিয়ে বড় বড় মাদক চালান আনানেয়া করে আসছে। গত জুন ও জুলাই দুই মাসে বড় বড় তিনটি ইয়াবা চালান পাস হয়েছে। আজও চালান পাস হতে পারে এমন তথ্য পেয়ে তিনি অভিযান পরিচালনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় পাস হয়ে যাওয়া দুইটি আন-রেজিস্টার্ড মাইক্রোবাসে থাকা চালান ধরতে না পারিনি। তবে পরবর্তীতে আসা ওই মাইক্রোবাসে থাকা একশ’ কোটি টাকা মুল্যের ইয়াবার চালান আটক করতে সমর্থ হই। মামলার তদন্ত করে ও আসামীদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে জড়িত ব্যক্তিদের মুখোশ উন্মোচন করে । পরবর্তীতে জড়িত অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *