চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত পথে ভারত থেকে অবাধে গরু এলেও-প্রশাসন উদাসীন

ফয়সান আজম অপু, বিশেষ প্রতিনিধিঃ শিবগঞ্জের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকার চোরাইপথে শত শত গরু ভারত থেকে আমদানী হলেও প্রশাসন নিরব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরজমিনে কয়েকটি সীমান্ত এলাকা ঘুরে বিভিন্ন পেশার মানুষের সাথে আলাপ করে ও কয়েকটি গোপন সূত্রে জানা গেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মাসুদপুর, সিংনগর ও মনোহরপুরসহ কয়েকটি সীমান্ত এলাকার বিওপির অধিনস্ত এলাকায় সরকার ঘোষিত কোন গরুর বিট না থাকায় কয়েকজন মুখ চেনা বিওপির কথিত দাললের মাধ্যমে প্রতিদিনই ভারত থেকে চোরাই পথে গড়ে শত শত গরু আমদানী করছে চোরাচালানীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চোরাই পথে আমদানী করা গরুর ব্যবসায়ী কয়েকজন জানান মাসুদপুর বিওপি বিজিবি সদস্যদের কথিত দালাল তারাপুর ডাকনি পাড়ার সফিকুল, ঠুঠাপাড়া গ্রামের বাসেদ, কাউয়ুম মনোহর আকবর, আলম সহ ১০/১৫ আরো কয়েকজনের মাধ্যমে চোরাইপথে গরু আমদানী করা হচ্ছে। বিনিময়ে গরু প্রতি ১ হাজার ৫শ টাকা করে আদায় করছে। আদায় কৃত টাকা প্রতি কথিত দালাল ও বিজিবি সদস্যদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করছে। তারা আরো জানান, তাদেরকে টাকা না দিলে নিজেরাই বিজিবির সোর্স হিসাবে ধরিয়ে দেয়। সূত্রমতে চোরাই পথে আমদানী হওয়া গরুগুলো সীমান্ত এলকার গ্রামে বা মহল্লায় বাড়িতে রেখে ইউনিয়ন পরিষদ ও বিজিবির নিকট হতে কাগজ করে বাড়ির গরু হিসাবে বৈধ করে নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন পশুহাটে বিক্রী করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরো কয়েকজন জানান গরুর সাথে নিয়ে আসছে হিরোইন, গাঁজা,মদ সহ বিভিন্ন ধরনের মাদক। তারা আরো জানান বিওপির দালালরা এতই প্রভাবশালী ও লাঠিয়াল যে তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলে না। তবে বাসেদ, সফিকুল, আকবর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন তারা কোনদিনই চোরাকারবারীর সাথে জড়িত ছিল না,এখনো নেই। এব্যাপারে মনোহরপুর বিওপি কমান্ডার সুবেদার নওসের আলি জানান বিজিবির কোন দালাল নেই। কেউ যদি আমাদের অজুহাতে টাকা আদায় করে,তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। মাসুদপুর বিওপির কমান্ডারের সাথে মুঠোফোনে বার বার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *