‘রোহিঙ্গা বিতর্কে মিয়ানমার ছাড়ছেন রেনেটা লক-ডেসালিয়ান’

টাইমস আই বেঙ্গলী ডকটম, ঢাকা : মিয়ানমারে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক মিস রেনেটা লক-ডেসালিয়ান চলতি মাসের শেষ দিকে দেশটি ত্যাগ করছেন। তার বিরুদ্ধে রাখাইন অঞ্চলে রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা ও মানবিক বিপর্যয়ে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সেখানে কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর তিনি বিতর্কিত হয়ে ওঠেন। মিয়ানমারে যোগ দেওয়ার আগে তিনি বাংলাদেশে জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ফ্রন্টিয়ার মিয়ানমার ডট নেট

২০১৪ সালের জানুয়ারিতে মিয়ানমারে জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন মিস রেনেটা লক-ডেসালিয়ান। তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিশ্বে অভিযোগ ওঠে রাখাইন অঞ্চলে রোহিঙ্গা নিধন, নির্বিচারে গণধর্ষণ ও তাদের বাড়ি ঘরে লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের মুখেও জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে কোনো কাজ করেননি এবং মিয়ানমারে জাতিসংঘের অন্যান্য কর্মকর্তা যারা এধরনের মানবিক বিপর্যয় নিয়ে কাজ করতে চেয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে বরং ব্যবস্থা নিয়েছেন।

গত এপ্রিল মাসে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছ থেকে জাতিসংঘের মহাসচিব এন্টোনিও গুতারেস’এর কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়, রেনেটা মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বরতা চললেও বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘের মিশনটিকে সেখানে নিখুঁতভাবে অকার্যকর করে রেখেছেন। এধরনের অভিযোগের পর তৎপর হয়ে ওঠে জাতিসংঘ।

এছাড়া মিয়ানমারে রেনেটা জাতিসংঘের মিশনে যোগ দেওয়ার পরপরই তার কার্যকলাপে সংস্থাটির অন্যান্য কর্মকর্তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং অভিযোগ তোলেন মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্কের কারণেই তিনি রাখাইন অঞ্চলে রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিষয়টি নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে নিশ্চুপ থাকছেন।

একই সময়ে রেনেটা কোনো মানবাধিকার সংস্থার লোকজনকে রাখাইনে পরিদর্শনে বিরত রাখতে সমর্থ হন। সেখানে জাতিগত নিধনের ব্যাপারে তার সহকর্মীরা উদ্বেগ জানালে তাদের বিরুদ্ধেও রেনেটা দাফতরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। ২০১৪ সালে জাতিসংঘের স্পেশাল র‌্যাপোটিয়ার মি থমাস ওজেয়া কুইতানাকে রোহিঙ্গা পরিস্থিতির ওপর কোনো বক্তব্য রাখতে বাধা দেন ও রাখাইনে তার ভ্রমণও বাতিল হয়ে যায়।

গত সেপ্টেম্বরে মিয়ানমারে জাতিসংঘের আরেক কর্মকর্তা মিস ক্যারোলিন ভানডেনাবিলি বিবিসি’কে জানান, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কথা বলা মোটেই পছন্দ করেন না মিস রেনেটা। জাতিসংঘের কোনো বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কথা বললেই চাকরি খোয়াতে হয়েছে, অপমানিত হতে হয়েছে, ভ্রমণ অনুমোদন হয়নি এবং হুমকি দেওয়া হয়েছে এমন নজির স্থাপন করেন মিস রেনেটা।

ফ্রন্টিয়ার মিয়ানমারকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা জানান, ৫ বছরের মেয়াদে রেনেটা ইয়াঙ্গুনে কাজ শুরু করলেও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ার কারণে তাকে আগেই দেশটি ছাড়াতে হচ্ছে। শুক্রবার জাতিসংঘের রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার- সেক্রেটারি- জেনারেল মি জেফরি ফেল্টম্যান ৫ দিনের সফরে মিয়ানমার আসছেন এবং রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সম্পর্কে সার্বিকভাবে অবগত হওয়াই হচ্ছে তার সফরের মূল লক্ষ্য। তিনি মিয়ানমার সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *